বিপিএলের শুরু থেকেই ব্যাট হাসছিল মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও এনামুল হক বিজয়ের। একজন দুর্দান্ত ঢাকার ওপেনার। অন্যজন খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক। নাঈম খেলেছেন নিজের ছন্দে, আর বিজয় তো ম্যাচও জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথেই যখন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টির স্কোয়াডে নাম ঘোষণা হলো তাদের, তারপরই যেন ব্যাটিং ভুলে গেছেন তারা।
খুলনা টাইগার্স ও দুর্দান্ত ঢাকা দুই দলই মুখোমুখি হয়েছিল আজ। দুজনের ব্যাটেই ছিল খরা। নাঈম ১১ বলে ৫ রান করে আউট হয়েছেন আর বিজয় ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক করে। যেন জাতীয় দলে ডাকা পাওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেটা পূরণ হতেই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ।
বিপিএলের এবারের আসরে ১১ ম্যাচে ২৫.৫৪ গড়ে ২৮১ রান করেছেন নাঈম। দুই ফিফটিতে তার সর্বোচ্চ ৬৪। অন্যদিকে বিজয় ১০ ম্যাচে প্রায় ৩৬ গড়ে করেছেন ২৫১ রান। তিন ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। তিনটি ম্যাচে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন তিনি। এমন দৃষ্টিনন্দন ইনিংসে দিয়ে নজর কেড়েছিলেন বিসিবির নির্বাচকদের।
নির্বাচকরা নিজেদের দায়িত্বটা পালন করেছেন বিপিএল দেখেই। কিন্তু সেটা দিয়েও হাফ ছেড়ে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই তাদের। কারণ দুজনের ব্যাটিংয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিজয় আজ শূন্য রানে আউট হওয়ার আগের ম্যাচে ব্যাটিং পজিশন বদলেছিলেন। তাতে ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হন। তার আগে রংপুরের বিপক্ষে করেছিলেন ৫। সিলেটের বিপক্ষে ৬৭ রানের ইনিংস খেললেও জেতাতে পারেননি।
এছাড়া দল ঘোষণার পর নাইম ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে আউট হয়েছেন মাত্র ১০ রান করেই। দুজনের এমন পারফরম্যান্স যেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কথাটাই সত্য প্রমাণ করে দেয়। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের স্কোয়াডে আছে ৫ ওপেনার। মিডল অর্ডার মাত্র দুই জন। নির্বাচকরা কি বুঝে দল ঘোষণা করেন বুঝি না।’
বিজয় এর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক হাজারের অধিক রান করেছিলেন। যেটা আবার ছিল বিশ্বরেকর্ড। সেই রেকর্ডের পর জাতীয় দলে ফিরলেও ভালো করতে পারেননি। বাদ পড়েছিলেন জাতীয় দল থেকে। তবে আবার তিনি ফিরেছেন। এমনকি বদলী ক্রিকেটার হিসেবে গিয়েছিলেন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপেও।
