ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের পরিণাম

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩২ এএম

কিছু মানুষের তৎপরতা ভাবার বিষয়। কারণ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে অন্য মানুষকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে বেড়ায়। দোষ খুঁজে নাজেহাল করে। এই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই কাজগুলো যারা করছেন- তারা সবাই মুসলমান দাবিদার। অথচ একজন মুসলিম কখনো অন্যের দোষের কথা বলে বেড়াতে পারে না। বরং এক মুসলিম অন্য মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে। এতে ফায়দা আছে। হাদিসে বলা হয়েছে, দুনিয়াতে যদি কোনো বান্দা অপর কোনো বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে তবে কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ ওই বান্দার দোষ-ক্রটি গোপন রাখবেন। -সহিহ মুসলিম

মানুষকে ব্যঙ্গ করার মধ্যে কোনো লাভ নেই। এটা নোংরা ও নিকৃষ্ট মনের পরিচয়। আমাদের তরুণ সমাজ এই নোংরামিতে জড়িয়ে পড়ছে। ভিডিও কন্টেন্টে যাচ্ছেতাই দেখানো হচ্ছে। যা নয়, যে ভাষা ব্যবহার করা যায় না- তাই করা হচ্ছে। তথাকথিত ভিউ বাড়ানোর জন্য জঘন্য কাজ করতে পিছু হটছে না। প্রশ্ন হলো, আপনি অন্যকে ব্যঙ্গ করছেন। আপনার মধ্যে কি ব্যঙ্গ করার মতো কিছু নেই? ভুল, অন্যায় দেখলে বুঝিয়ে বলতে অসুবিধা কোথায়? অন্যকে নাজেহাল করার অধিকার আপনি কোথায় পেলেন?

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা কোরো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ইমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তওবা করে না, তারাই তো জালেম।’ -সুরা হুজুরাত : ১১

নাম, আঞ্চলিকতা নিয়ে ট্রল বা ব্যঙ্গ করা যাবে না। যারা ব্যঙ্গ করে, যারা তাদের সঙ্গে সায় দেয়- উভয়েই অপরাধী। উভয়কেই মহান আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। ব্যঙ্গতে সাময়িক ভিউ কিংবা নোংরা আনন্দ মিলতে পারে। কিন্তু পরকালের পরিণাম অতি নিকৃষ্ট। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার ওপরে জুলুম করে না, তাকে সহযোগিতা করা পরিত্যাগ করে না এবং তাকে লাঞ্ছিত ও হেয় করে না। কোনো ব্যক্তির জন্য তার কোনো মুসলিম ভাইকে হেয় ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করার মতো অপকর্ম আর নেই। -মুসনাদে আহমাদ : ১৬/২৯৭

বাহয ইবনে হাকিম (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা তার পিতার সূত্রে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস। -সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৯০

তাহলে কী দাঁড়াল ব্যঙ্গ করা তো দূরের কথা, মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা পর্যন্ত বলা যাবে না।

আমরা যারা অভিভাবক আছি। তাদের সচেতন হওয়া দরকার। ছেলেমেয়েরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে লিপ্ত কি না দেখা দরকার। ভরণ-পোষণ করলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তানকে পাপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের দায়িত্ব রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত