নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেই সঙ্গে ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি বাতিল না করলে পাল্টা কমিটি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সহসভাপতি। শুক্রবার রাতে শহরের দেওভোগে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন আইভী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা মহানগর আওয়ামী লীগের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক স্থানেই অসন্তোষ আছে। সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ড কেন করেনি? আমার আনোয়ার কাকা আর শ্রদ্ধেয় খোকন সাহার কাছে প্রশ্নÑ ২৭টি ওয়ার্ডই আমার নির্বাচনী এলাকা। কোন সাহসে কোন অধিকারে আমাকে না জিজ্ঞেস করে আপনারা এই ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি দিলেন। আমি এই ১৭টি ওয়ার্ডের পাল্টা কমিটি দেব। যদি ওই ১৭টি ওয়ার্ডের লোকজন যোগাযোগ করে আমি অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াব।’ তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। এই আনোয়ার কাকা তার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে মনোয়ার সজলকে ঘায়েল করার জন্য এ কাজ করেছেন। দেওভোগ আওয়ামী লীগকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে আমি যাকে চাই সেই হতে পারে। তাকে (আনোয়ার) আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে দেওভোগের মানুষ হিসেবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’
মেয়র বলেন, ‘এই কমিটি মানব না, যদি আনোয়ার মিয়া আর খোকন সাহার কমিটি ২০০৩ থেকে আজকে পর্যন্ত চলতে পারে, তাহলে এখানেও বর্তমান যে কমিটি আছে সেটাই চলবে। যে কজন মারা গেছেন আপনারা বৈঠক করে ঠিক করে নেবেন, দায়-দায়িত্ব আমি বুঝব। যারা হয়েছেন, ওই দুজনের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, এই আওয়ামী লীগ অফিসে এসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে...। অফিসে আসবেন বসবেন, কিন্তু কোনো ধরনের বেয়াদবি চলবে না। যদি কমিটি নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হয় সেটাও হতে দেব না।’
মেয়র আরও বলেন, ‘যদি আমাদের রফিক ভাই কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে বর্তমান যে যুগ্ম সম্পাদক তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। আমি অবশ্যই আমাদের কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলব। আপনারা যেভাবে বললাম সেভাবে করবেন। এটা পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হলো। মানে যা ছিল তাই থাকবে।’
আইভী অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের দাফন রচনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার সাহেব ও খোকন সাহা তাদের নিজেদের পকেটের লোক দিয়ে আওয়ামী লীগকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন। তিনি কারও সঙ্গে মেশেন না, কারও সঙ্গে কথা বলেন না। দল কীভাবে গোছাতে হয় তিনি জানেন না। না গুছিয়ে তিনিও যাকে যাকে দিয়েছেন এরাও পকেট লোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা কি ছেলেখেলা! দল কি আনোয়ার সাহেব আর খোকন সাহার বাবার সম্পত্তি? আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর দল, শেখ হাসিনার দল। আমাদের কর্মীবান্ধব দলের আমি শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী। আমি বাংলাদেশে আসছি ২০০৩ সালে। ২০০৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দলের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলিনি, আজ বাধ্য হয়েছি। এখন থেকে শুরু করলাম, দলের ভেতর কোনো অনিয়ম চলবে না। ২৭টি ওয়ার্ডই আমার নির্বাচনী এলাকা, আমার মতামত নিয়ে যদি না করে তাহলে আমি পাল্টা কমিটি দেব।’
এদিকে বৈঠকের পরই ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদ সাগরের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তারা ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি ভুয়া ও সেখানে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে নেতাকর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
