সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৩২টি জেলার ৭২টি উপজেলায় প্রতীকী লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল কর্মসূচি পালন করবেন পাঁচ ব্যক্তি। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৩২টি জেলার ৭২টি উপজেলায় প্রতীকী লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদের সামনে ও আখাউড়া রেল স্টেশন চত্বরে তাদের কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচির নেতৃত্বে আছেন মো. হানিফ ওরফে হানিফ বাংলাদেশী। যিনি এর আগেও একই দাবিতে প্রতীকী লাশ কাঁধে নিয়ে পদযাত্রা করেন। তিনি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। তার সঙ্গে থাকা অপর চারজন হলেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের মোহাম্মদ সৌরভ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর নুরুল আজিম, রংপুরের পীরগাছার আবু নাসিম ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মো. আরিফ।
হানিফ বাংলাদেশীর নেতৃত্বে প্রতীকী এই প্রতিবাদটি আখাউড়া উপজেলায় এসেছে। এ পাঁচজন বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার সাথে সীমান্ত আছে এমন সব জেলা ও উপজেলা প্রদক্ষিণ করে প্রতিবাদ জানাবে। কর্মসূচি যশোরের বেনাপোল উপজেলায় গিয়ে শেষ হবে।
কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দুটি দেশ ভারত ও মিয়ানমার সব সময় বাংলাদেশের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, ভারত সব সময় সীমান্তে নিরীহ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন বিজিবি সদস্যকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে, গত চার মাসে ভারত সীমান্তে ২১ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারের সংস্থার হিসেবে ২০১০ সাল থেকে প্রায় ১২৭৬ জন বাংলাদেশিকে বিএসএফ হত্যা করেছে, ১১৮৩ জন আহত হয়েছে। আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার তাদের ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে অত্যাচার করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। গত ০৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে মর্টার শেলে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছে। সীমান্ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে আমি প্রতীকী লাশ কাঁধে নিয়ে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম পদযাত্রা করেছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলদেশের জনগণ সব সময় প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ দুটি বাংলাদেশের সাথে বৈরী আচরণ করে। সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার পরে বলা হয় এরা গরুচোর চোরাকারবারি। হতে পারে এরা গরুচোর বা চোরাকারবারি। এদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক, গুলি করে হত্যা করবে কেন? ভারত ও মিয়ানমার যদি তাদের দেশের পাচারকারীদের দমন করে তাহলে বাংলাদেশের পাচার এমনিতে বন্ধ হয়ে যাবে।
হানিফ বাংলাদেশী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় যে দলই এসেছে সে দলই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের মানুষকে মূল্য না দিয়ে বিদেশিদের দ্বারস্থ হয়েছে। শাসকদের এই দুর্বল নতজানু নীতির কারণে ভারত ও মিয়ানমার সব সময় বাংকাদেশের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর ক্ষমতা প্রদর্শনের সাহস পাচ্ছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষ কখনও কোনো দেশের দাদাগিরি মেনে নেয়নি। নতুন প্রজন্মও কোনো দেশের আগ্রাসন মেনে নেবে না। বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।
হানিফ বাংলাদেশী বলেন, এই কর্মসূচিতে আমরা দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের সচেতন মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। যেদিন যে জেলা উপজেলায় এই মিছিল যাবে সেখানে যেকোনো দল, সংগঠনকে আমাদের সাথে সংহতি জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
