জাবিতে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সম্প্রতি গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে ধর্ষণকাণ্ডে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম 'নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মূল সড়ক দিয়ে ছাত্রীদের হল ঘুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীরা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে ফের মিছিল বের করে পরিবহন চত্বর গিয়ে একটি সমাবেশ করেন ।

নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের দাবিগুলো হলো- ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল থেকে বের করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করা এবং র‍্যাগিং সংস্কৃতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা, নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিশ্চিত করাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করা, নিপীড়কদের সহায়তাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তদন্ত  চলাকালীন প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যহতি প্রদান করতে হবে, মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণাপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৬ দিন যাবত নিপীড়ক ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছি৷ কিন্তু আমরা এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি৷ আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা রয়েছে। সেখানে যদি যৌন নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে আমরা সিন্ডিকেট সদস্যদের ঘেরাও করব৷'

নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের সদস্যসচিব পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি আমাদের পাঁচটি দাবির মধ্যে একটি দাবিও অযৌক্তিক দেখাতে পারবে? আমরা আন্দোলন করছি গত  ৩ ফেব্রুয়ারী থেকে। কিন্তু প্রশাসন এখনো কোনো ফয়সালা করতে পারেনি। ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত মোস্তাফিজুরদের অনুপ্রেরণাদানকারী নিপীড়ক শিক্ষক এখনে বহাল তবিয়তে।  কিন্তু প্রশাসন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বারংবার প্রশাসন গড়িমসি করছে। আমরা আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় ধর্ষক,নিপীড়ক ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একটি দৃড় ঘোষণা চাই। অন্যথায় অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরিক্ষায় বাঁধা দিতে বাধ্য হবো। আর এর দায় নিতে হবে প্রশাসনকে।’

সমাবেশে  উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল রকিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত