হঠাৎ মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে গেলে যা করবেন

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম

গাজীপুর থেকে উত্তরা হয়ে মেট্রোরেলে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন মো. আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে মেট্রোরেল তার কাছে একটা ভরসার বাহন। কিন্তু গত মাসে কয়েকবার মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় এই বাহনে চলাচলে তার ভয় কাজ করছে।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেদিনও মেট্রারেল বন্ধ থাকায় এক ঘণ্টার মতো স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছিল। এইভাবে যদি হুটহাট বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো অনেক সমস্যায় পরে যেতে হয়।

মেট্রোরেল মিরপুরের আরেক যাত্রী সুমাইয়া ইসলাম রুমি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেট্রোরেলের জন্য মিরপুর থেকে যেকোনো এলাকায় যাতায়াত এখন সহজ হয়ে গেছে। তবে কয়দিন আগে তারে ঘুড়ি পরায় মেট্রোরেল চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু দরজা খুলে যাওয়ায় বাইরে এক ঘণ্টা মতো দাঁড়িয়েছিলাম।

সম্প্রতি বিদ্যুতের তারে ঘুড়ি আটকে ও যান্ত্রিক ত্রুটিসহ অন্যান্য কারণে বেশ কয়েকবার মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কয়েক মিনিট থেকে একঘণ্টা পর্যন্তও বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চলতি পথে হঠাৎ মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীরা কী করবেন, তাদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ আছে কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। কোনও কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হলে যাত্রীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, টেকনিক্যাল কারণে মেট্রোরেল থেমে গেলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মেট্রোরেলে এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেন যখন চলে এটি নিজেও কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। চলাচলের সময় ট্রেনের ব্রেকিং সিস্টেম থেকে ব্যাটারিতে চার্জ হতে থাকবে।

তিনি জানান, দুই স্টেশনের মধ্যবর্তী কোনও জায়গায় মেট্রোরেল থেমে গেলে এটি নিজের রিজার্ভ বিদ্যুৎ দিয়ে নিকটবর্তী স্টেশনে থামবে। এক্ষেত্রে সামনের স্টেশনেও যেতে পারে, আবার রিভার্স নিয়ে পেছনের স্টেশন, যেটা কাছে থাকবে সেখানেও যেতে পারে। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসার পর অটোমেটিক ডোরগুলো খুলে যাবে। তখন যাত্রীরা চাইলে অপেক্ষায় থাকতে পারেন। আবার অন্য কোনও উপায়ে গন্তব্যেও চলে যেতে পারবেন।

মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, আমাদের ট্রেনগুলোর ভেতরে স্ক্রিন আছে, সেখানে সমস্যার কথা উল্লেখ করি, যাতে যাত্রীরা জানতে পারেন কী কারণে ট্রেনটা থেমে আছে। এছাড়াও ট্রেন অপারেটরও সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তিনিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।

ট্রেন থেমে গেলে যাত্রীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডিএমটিসিএল-এর কোম্পানি সচিব আরও বলেন, যাত্রীদের বলবো, আপনারা নির্দেশনা ফলো করবেন। নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নিকটবর্তী স্টেশনে নেমে যেতে পারবেন।

মেট্রোরেলের চলাচল বারবার বিঘ্নিত হওয়ার সমাধান জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব বলেন, জানুয়ারির শেষ দিকে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাত নাগাদ মেট্রোরেল চালু হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এখনও যাত্রীদের অনেকেই মেট্রোরেল সিস্টেমের সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত নন। এ কারণে যাত্রীদের মেট্রোরেল ব্যবহার আর মেট্রোরেলের প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয় হয় না অনেক সময়। আবার বাইরে থেকে ঘুড়ি-ফানুস এসব এসে পড়ার কারণেও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশে নয়, উন্নত অনেক দেশেও মেট্রোরেল যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বন্ধ হয়। তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেট্রোরেলের যান্ত্রিক ত্রুটি হলে সেটির সমাধান করা হবে।

সম্প্রতি নানা জটিলতায় গত এক মাসে তিনবার যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য এক ঘণ্টা করে বন্ধ ছিল মেট্রোরেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত