উত্তর রাখাইন

গোলা-কামান ধ্বংস করে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে জান্তা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৬ পিএম

বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান লড়াইয়ে পরাজয় বুঝতে পেরে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করেছে জান্তা বাহিনী। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে স্বায়ত্তশাসিত রাখাইনের দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করে আসা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। খবর দ্য ইরাবতির।

বিবৃতিতে বলা হয়, জান্তা বাহিনী বর্তমানে রাখাইনের দক্ষিণে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। রাখাইনের দক্ষিণে রামরিতে স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে তারা। এর আগে শনিবার জান্তার গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় ৪ নম্বর কিং তায়ে ওয়ার্ডের অন্তত ১৫০টি বাড়ি পুড়ে যায়।

আরাকান আর্মির দাবি, রবিবার রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় মাইবোন শহরের দুটি পাহাড়ি ঘাঁটি থেকে সৈন্যদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এজন্য ওই এলাকায় চারবার হেলিকপ্টার অবতরণ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সৈন্যদের রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

আরাকান আর্মি বলছে, জান্তা লড়াইয়ে নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবে। ফলে আমরা যেসব শহর দখল করার চেষ্টা করছি, সেখানকার সামরিক ফাঁড়ি ও পাহাড়ি ঘাঁটি পুড়িয়ে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে তারা।

জানা গেছে, রবিবার বিকালে মাইবোনের পাহাড়ের চূড়ার পয়েন্ট ৪০২ ও ৪০৮-এ জান্তা সেনারা ফাঁড়ির ভেতরে নিজেদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং কামান ধ্বংস করে। হিন খা র‌্য গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ফাঁড়িগুলো থেকে কেবল বহনযোগ্য অস্ত্র নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাখাইনের অন্য এলাকায়ও আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তার সংঘর্ষ চলছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় রাখাইনে সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে আরাকান আর্মি।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে জান্তার বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফোর্স (পিডিএফ)। পিডিএফভুক্ত তিন গোষ্ঠী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএ), আরাকান আর্মি (এএ) এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) এই সংঘাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই তিন গোষ্ঠী একত্রে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামেও পরিচিত।

প্রায় চার মাসের সংঘাতে মিয়ানমারের অন্তত ৪০টি শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ শান প্রদেশসহ অন্তত ৫টি প্রদেশ দখলে নিয়েছে পিডিএফ। সম্প্রতি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশ দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে আরাকান আর্মি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত