মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পুরুষদের গ্রাম ও ক্যাম্প থেকে ধরে এনে জোরপূর্বক দেশটির সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করছে জান্তা সরকার। এসব রোহিঙ্গা পুরুষদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার এ তথ্য জানায় থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত মিয়ানমারের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ইরাবতি। রাখাইনের অধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাদের বরাতে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
ইরাবতি জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা পুরুষদের জান্তার সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করার প্রাথমিক সতর্কতা তখনই এসেছিল, যখন গ্রাম ও আইডিপি ক্যাম্প থেকে কমপক্ষে ৪০০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে জোরপূর্বক দুই সপ্তাহের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছিল।
মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধে পরাজিত শহর ও ঘাটিগুলো পুনরায় নিজেদের দখলে নিতে দুই সপ্তাহের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে রোহিঙ্গা পুরুষদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।
জান্তা বাহিনী জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা পুরুষ সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন তাদের এক বস্তা চাল, নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র এবং মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার কিয়াট বেতন দেয়া হবে।
ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান বলেছেন, প্রশিক্ষণের সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। যাদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তাদের জান্তা বাহিনী শুধুমাত্র মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব নারী-পুরুষের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের তিনটি রাখাইন শহর- বুথিডাং, মংডু এবং সিত্তওয়েতে রোহিঙ্গানেতা এবং গ্রাম প্রশাসকদের তালিকা তৈরি করার জন্য চাপ দিচ্ছে সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং কর্মীরা বলছেন, পরবর্তী গ্রুপের জন্য তাদের নামসহ আরও ৩০০ জনের একটি তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে।
রাশিয়ার ৫০০ ব্যক্তি-সংস্থার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরে যেভাবে বদলেছে রাশিয়া