মজুরি পাচ্ছেন না অতিদরিদ্র চার হাজার শ্রমিক

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪১ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে দুই মাসেরও বেশিদিন ধরে মাটি কাটার কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন না কর্মসৃজন কর্মসূচির (ইজিপিপি প্লাস) অতিদরিদ্র শ্রমিকরা। এতে প্রকল্পের প্রায় চার হাজার অতিদরিদ্র শ্রমিক অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুই মাস কাজ করেও মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কাজের মজুরি না পেয়ে দরিদ্র শ্রমিকের পরিবারগুলোতে হাহাকার চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ১৬৫ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির (ইজিপিপি প্লাস) কাজ শুরু হয়। আর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৬৩টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৪ হাজার দরিদ্র শ্রমিক প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন মাটি কাটার কাজ করছেন। প্রকল্পের প্রতিজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা। শ্রমিকের মজুরির টাকা বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে শ্রমিকের মোবাইলে নগদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ২ মাস ধরে কাজ করেও মজুরির টাকা পাচ্ছেন না তারা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পে গেলে কর্মরত দরিদ্র শ্রমিকরা জানান, সপ্তাহে ৫ দিন করে তারা ৬০ দিনেরও বেশি কাজ করছেন। দুই সপ্তাহ পরপর কাজের বিল একসঙ্গে দেওয়ার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা দিচ্ছেন না। এতে এক ধরনের খেয়ে না খেয়েই তাদের মাটি কাটার মতো কষ্টকর কাজ করতে হচ্ছে। মগনামা ইউনিয়নের নারীশ্রমিক তছলিমা আকতার বলেন, ‘দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাজ করেও মজুরির টাকা পাইনি। এতে ছেলেমেয়ের তিনবেলা ঠিকমতো খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’

শুধু তছলিমা একা নন, তার মতো পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের আরও ৪ হাজার দরিদ্র শ্রমিকের পরিবারে মজুরির টাকা না পেয়ে হাহাকার চলছে।

উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের শ্রমিক দেলোয়ার হোছাইন বলেন, ‘প্রচ- শীতের মধ্যেও পরিবারের কথা ভেবে কর্মসৃজন কর্মসূচির প্রকল্পে কাজ করেছি। কিন্তু ২ মাস ধরে মজুরির টাকা পাচ্ছি না। বিকল্প কোনো আয়ের ব্যবস্থাও নেই। যে দোকান থেকে বাকিতে চাল-ডাল নিতাম, সেই দোকান মালিকও টাকা দিতে না পারায় আর চাল দেবে না বলে দিয়েছেন। তাই খুব বিপদে আছি।’ একই রকম কথা জানান উপজেলার সদর, বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র শ্রমিকরা। পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের কাজের মজুরির বিল অনেক আগেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিলটি বাংলাদেশ ব্যাংক হয়ে প্রত্যেক শ্রমিকের মোবাইলের নগদ নম্বরে মজুরির টাকা চলে যাবে। তবে, শ্রমিকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে মজুরির টাকা আসতে বিলম্বের কারণ তিনি জানেন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত