গাজাতে নেই দুধ, ক্ষুধায় দুই মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

  • শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া একজন প্যারামেডিক বলেন তীব্র অপুষ্টিতে মারা গেছে মাহমুদ, কয়েক দিন ধরে শিশুটি দুধ খেতে পারেনি সে
  • অক্টোবরের শেষের দিক থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সাহায্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উত্তর গাজা
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪১ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও খাবারের সংকট দিন দিন চরম মাত্রায় ঠেকছে। এবার উপত্যকাটিতে অনাহারে মারা গেছে দুই মাসের এক ফিলিস্তিনি শিশু।   

যুদ্ধ ও ক্ষুধার কারণে শিশু মৃত্যুর জাতিসংঘের সতর্কতার পরপরই ভূখণ্ডটিতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। খবর আল জাজিরা।

বার্তাসংস্থা শিহাব বলছে, মাহমুদ ফাত্তুহ নামে ওই শিশু শুক্রবার গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে মারা যায়। আল জাজিরার যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় দুর্বল শিশুটি হাঁপাচ্ছিল।

শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া একজন প্যারামেডিক বলেন তীব্র অপুষ্টিতে মারা গেছে মাহমুদ। 

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই এক নারী তার সন্তানকে কোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চিৎকার করছেন। ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া শিশুটিকে দেখে মনে হচ্ছিল শেষ সময়ের নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে জানতে পারি সে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। মেডিকেল কর্মীরা তাকে আইসিইউতে নিয়ে যায়। কয়েক দিন ধরে শিশুটি দুধ খেতে পারেনি। কারণ শিশুদের খাবার দুধ গাজায় নেই।‘

মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘ বলছে যে, গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

গত সাত অক্টোবর যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তবে পরবর্তীতে অল্প পরিসরে ত্রাণ সরবরাহ শুরু হলেও নিরাপত্তার অভাবে গাজার সব স্থানে ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না মানবাধিকার কর্মীরা।

বিশেষ করে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে উত্তর গাজা, অক্টোবরের শেষের দিক থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সাহায্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অঞ্চলটি। সে অঞ্চলের শিশুদের, বিশেষ করে নবজাতকদের মধ্যে অপুষ্টির তীব্র বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা।

উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের প্রধান ডাঃ হুসাম আবু সাফিয়া সেখানকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে "বিপর্যয়কর" বলে বর্ণনা করেছেন।

আবু সাফিয়া আল জাজিরাকে বলেন, "নবজাতকের মধ্যে দুর্বলতা এবং ফ্যাকাশে হওয়ার লক্ষণগুলি স্পষ্ট কারণ মায়েরাও তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন।

ইতিমধ্যে অনেক শিশু মারা গেছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দ্রুত সঠিক সাহায্য না পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলেও জানান সাফিয়া।

জাতিসংঘ বলছে, মাত্র তিন মাসে জনসংখ্যার পুষ্টির অবস্থার এই ধরনের পতন বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত