ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সুরক্ষিত রাখুন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২০ এএম

ইন্টারনেট ব্যবহারে আমাদের পরিচয় সাধারণত অন্যান্য ব্যবহারকারীদের কাছে গোপন। তবে আমাদের ডিভাইসের IP অ্যাড্রেস (ইন্টারনেট  প্রোটোকল) ঠিকানাসহ ট্যাগ করা থাকে। প্রেরিত বার্তা শুধু গন্তব্যের ঠিকানাই বহন করে না, সঙ্গে প্রেরকের লোকেশনও অরক্ষিত রাখে অর্থাৎ বিস্তীর্ণ ইন্টারনেটে আপনার লোকেশন প্রতিনিয়ত ‘পাবলিক’। এমনকি ব্রাউজার হিস্ট্রিও আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডারের কাছে উন্মুক্ত।   বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অরিজিনাল IP ঠিকানা লুকানো সম্ভব।

ভিপিএনের গুরুত্ব

ভিপিএন ব্যবহার না করলে মূল্যবান তথ্য ইন্টারনেটে অনিরাপদ। অনেকটা খামহীন চিঠির মতো। সবসময় ভিপিএন ব্যবহার না করলেও অন্তত ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদান করার সময় ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে অনলাইনে লেনদেন করার সময়। ১৯৯৬ সালে একজন মাইক্রোসফট কর্মকর্তা ‘গোরদিপ সিং পাল’ মূলত ভিপিএন তৈরি করেছিলেন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। আপনি যদি নিয়মিত ঘরের বাইরে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন সে ক্ষেত্রেও ভিপিএন ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত কারণ পাবলিক নেটওয়ার্ক কোনো ক্ষেত্রেই বিশ্বস্ত নয়। ইন্টারনেট ট্র্যাফিক রক্ষার্থে এবং ডিভাইসে যে কোনো সফ্টওয়্যার বা ফার্মওয়্যারকে সুরক্ষিত রাখতে ভিপিএনের বিকল্প নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানি, প্রাইভেট এজেন্সি আপনার বাসার ইন্টারনেট প্রোভাইডার থেকে ইনফরমেশন সংগ্রহ করছে কিনা তারও সম্ভাবনাও আছে। অধিকাংশ সরকারি এবং প্রাইভেট সংস্থাগুলো পাবলিক নেটওয়ার্কগুলোতে তাদের ডেটা সুরক্ষিত করতে VPN-এর ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক অনুসন্ধান অনুসারে, বিশ্বে ৪ জনের মধ্যে ১ জন ভিপিএন সার্ভার ব্যবহার করেন।

কী লোকেশন সার্ভার ব্যবহার করবেন?

সংক্ষেপে, ভিপিএন ইন্সটল করার পর আশপাশের যে কোনো সার্ভার ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার সব ডাটা এনক্রিপটেড হয়ে যাবে। তা ছাড়া বিভিন্ন ব্লকড ওয়েবসাইটে লগইন কিংবা সেন্সর করা বিষয়বস্তু এক্সেস করতে বিভিন্ন দেশের সার্ভার ব্যবহার করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ দেশের বাইরে থেকে মাইজিপি, বিকাশের মতো অ্যাপ ব্যবহার করতে বাংলাদেশ সার্ভার সিলেক্ট করা লাগবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ডিসনি, হুলু ইন্টারনেট আর্কাইভের মতো সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে আমেরিকান সার্ভার ব্যবহার করা লাগবে।

ফ্রি ভিপিএন কি সুরক্ষিত?

ভিপিএনে মাসিক কিংবা বার্ষিক প্ল্যানে কিনে নিতে হয়। আর ফ্রি ভিপিএনের সিকিউরিটি অনির্ধারিত এবং প্রচুর ডাটা লিক হয়। তা ছাড়া ইদানীং ফ্রি ভিপিএন বেকফায়ার করছে অর্থাৎ সিকিউরিটির বদলে ডিভাইসে ম্যালওয়ার প্রবেশ করছে, যা নিয়ে অনেকেই অবগত না। অন্যদিকে পেইড ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনার সম্পূর্ণ ডাটা ১০০% এনক্রিপটেড হয়ে যায়। এবং সব ডাটা

থার্ডপার্টির কাছে জিভারিশ ইনফোতে পরিণিত হয়। অর্থাৎ হ্যাকার কোনো সুযোগে আপনার তথ্য পেয়ে গেলেও তা কনভার্ট করা কোনো সম্ভাব্যতা নেই।

ভিপিএনে ট্র্যাকিং হয় কি না

অনেকেই মনে করেন ভিপিএন ব্যবহার করলে ইন্টারনেট আপনার লোকেশন একদম লুকিয়ে রাখে। ব্যাপারটা পুরোপুরি তা নয়। ভিপিএন ব্যবহারে এক্সট্রা সিকিউরিটি পাবেন হ্যাকার থেকে বাঁচতে পারবেন, তবে অবৈধ কিছু করলে সার্ভিস প্রোভাইডার কর্তৃপক্ষ আপনাকে ট্র্যাক করে নিতে পারবে। কীভাবে? যদিও পুলিশ লাইভ এনক্রিপ্ট করা VPN ট্র্যাফিক ট্র্যাক করতে পারে না, কিন্তু যদি তাদের কাছে কোর্ট অর্ডার থাকে,

তাহলে তারা আপনার  ISP  (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার)-এর কাছে ব্যবহারের লগের অনুরোধ করতে পারে। কারণ আপনার ওঝচ সবসময়ই জানবে আপনি VPN ব্যবহার করছেন কি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত