পতেঙ্গা থেকে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন পর্যন্ত দিনে-রাতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের সুযোগ হয়েছে। এ বৈচিত্র্য নিয়ে জানিয়েছেন ‘ক্রুজ শিপ বে ওয়ান’-এর উদ্যোক্তা কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের এমডি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ
দেশ রূপান্তর : দেশের পর্যটনশিল্পে বৈচিত্র্য এনেছে ক্রুজ শিপ সার্ভিস। আপনি যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন, তা কি বাস্তবায়ন হয়েছে?
ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ : লস প্রজেক্ট। আমি নতুনত্ব আনলেও মানুষ শিপে যায় না। এক ট্রিপে আসা-যাওয়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু অর্ধেকের মতো সিট খালি থাকায় প্রায় চার লাখ টাকা লস দিতে হয়। এখন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি।
দেশ রূপান্তর : আর আমরা তো দেখছি শিপে করে প্রচুর মানুষ সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে। তাহলে লস হবে কেন?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : কক্সবাজার থেকে আমাদের যে দুটো সার্ভিস (বারআউলিয়া ও কর্ণফুলী) রয়েছে, সেগুলোতে প্রচুর পর্যটক গিয়ে থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে বে-ওয়ানে চাহিদা অনুযায়ী পর্যটক হয় না। বারআউলিয়া ও কর্ণফুলীর লভ্যাংশ দিয়ে বে-ওয়ান সমন্বয় করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম থেকে পর্যটক কম কেন হচ্ছে?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : মানুষ ঢাকা থেকে বিমানে বা ট্রেনে করে কক্সবাজার চলে যাচ্ছে। অনেকের প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই কক্সবাজার। আর যারা সেন্টমার্টিন যেতে চায়, তাদের জন্য তো কক্সবাজার থেকে সার্ভিস রয়েছেই।
দেশ রূপান্তর : তাহলে বে-ওয়ান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : বে-ওয়ান জাহাজকে আরও মডিফাই করে সৌদি আরবে হজ যাত্রার জন্য প্রস্তুত করছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন সৌদি সরকারের অনুমোদন পেলেই চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রা শুরু করা যাবে। এজন্য আমরা নতুন একটি বড় জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া নিয়েছি এবং এই জাহাজকে বড় করা হচ্ছে। দুই জাহাজে প্রায় ছয় হাজার লোককে কম টাকায় হজ নেওয়া যাবে। জাহাজে করে সৌদি আরবে যেতে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগবে। তবে জাহাজে করে এক ট্রিপের বেশি হাজি নেওয়া যাবে না।
দেশ রূপান্তর : একসময় জাহাজে করে হজে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য চট্টগ্রামে হাজিক্যাম্প করা হয়েছিল। তাহলে কি এখন আবারও এর প্রয়োজন হবে?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : না, এর মনে হয় প্রয়োজন হবে না। জাহাজের মধ্যেই এহরাম করার সুযোগ থাকবে।
দেশ রূপান্তর : দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : সেন্টমার্টিনকে মালদ্বীপের মতো গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হোক। তাহলে বিদেশিরা সেন্টমার্টিনের জন্য লাইন ধরবেন। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করবেন। কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
দেশ রূপান্তর : আমাদের পর্যটন স্পটগুলোতে রাতে বিনোদনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ইঞ্জিনিয়ার রশিদ : অবশ্যই সন্ধ্যার পর বিনোদনের সুবিধা থাকতে হবে। পর্যটকরা বিনোদনের জন্যই ঘুরতে বের হয়। তাই তাদের সাংস্কৃতিক বিনোদন, আধুনিক শপিং মলসহ নানা সুবিধা দিতে হবে।
