‘বাবা, আমাকে বাঁচাও’

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ০২:৪১ এএম

‘বাবা, আমি আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছি, তাড়াতাড়ি আমাকে উদ্ধার করো।’ এই ছিল বুয়েটের শিক্ষার্থী লামিশা ইসলামের শেষ কথা। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে লামিশার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। মা-হারা লামিশাকে উদ্ধারে বাবা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি নাসিরুল ইসলাম শামীম শত চেষ্টা করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি।

গতকাল শুক্রবার ভোরে লামিশার নিথর দেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও শোকে নির্বাক। শোকে পাথর বাবা কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। লামিশার মায়ের আশা ছিল তার মেয়ে বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করবেন। মায়ের ইচ্ছাতেই লামিশা বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সব আশা বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই।

লামিশা ইসলামের বাড়ি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে লাশ পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। লামিশাকে শেষবারের মতো দেখতে প্রতিবেশীরা ভিড় জমান। বাদ জুমা শহরের চকবাজার জামে মসজিদে লামিশার জানাজা হয়। এতে পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। পরে লামিশাকে ফরিদপুর আলীপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

চাচা রফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মগবাজারের পুলিশ কোয়ার্টারের বাসা থেকে বান্ধবীকে নিয়ে খাবার খেতে “কাচ্চি ভাই” রেস্টুরেন্টে যায় লামিশা। রাতে আগুন লাগার পর লামিশা তার বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে, সে আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছে। তাড়াতাড়ি তাকে উদ্ধারের কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেও তাকে আর ফোনে পায়নি। ভবনের ভেতরে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে বান্ধবীসহ সে মারা যায়।’

তিনি আরও জানান, তার ভাতিজি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তাদের পরিবারের অনেক আশা ছিল লামিশাকে নিয়ে। মা-হারা লামিশা সংসারের সব বিষয়ে দেখাশোনা করতেন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের সবকিছু শেষ হয়ে গেল।

লামিশা ইসলাম বুয়েটের মেকানিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। দুই বোনের মধ্যে লামিশা পরিবারের বড় সন্তান। লামিশার মা ২০১৫ সালে মারা যান।

এদিকে লামিশার সঙ্গে বুয়েটের আরেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন শেষ হয়। বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় বুয়েটের আরেক শিক্ষার্থী হলেন নাহিয়ান আমিন। শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। স্বজন ও সহপাঠীদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কেউ কথা বলতে পারছেন না।

জানা গেছে, নাহিয়ান আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। নাহিয়ানের গ্রামের বাড়ি বরিশাল।

লামিশার মৃত্যুতে ডিএমপি কমিশনারের শোক : পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) নাসিরুল ইসলামের মেয়ে লামিশা ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

গতকাল এক শোকবার্তায় ডিএমপি কমিশনার লামিশা ইসলামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত