কিশোরগঞ্জ জেলা যুবলীগের ৯০ দিনের আহ্বায়ক কমিটি প্রায় এক যুগ পার করে ফেলেছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি আজও হয়নি। নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েও কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় আশাহত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। যার ফলে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আমিনুল ইসলাম বকুলকে আহ্বায়ক এবং মীর আমিনুল ইসলাম সোহেল ও রুহুল আমিন খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্যের ওই কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম। ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ওই আহ্বায়ক কমিটি করা হলেও গত প্রায় ১২ বছরেও জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। একই অবস্থা জেলার ১৩টি উপজেলা যুবলীগের কমিটিগুলোতেও। প্রায় সবগুলো উপজেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি নেই। যার ফলে উপজেলাতেও ঝিমিয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতেও জেলা যুবলীগের সম্মেলনের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর কিশোরগঞ্জ যুবলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে যুবলীগের প্রধান কার্যালয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সর্বশেষ শিক্ষা সনদের ফটোকপিসহ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। যুবলীগের বর্তমান নেতারা ছাড়াও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছে ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতার নাম। যারা ইতিমধ্যে পদ প্রত্যাশায় নিজেদের জীবন বৃত্তান্ত কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তবে এ কার্যক্রম বর্তমানে খানিকটা ঝিমিয়ে পড়ায় আশাহত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। যদিও শীর্ষ পদ পাওয়ার জন্য প্রায় ডজনখানেক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। যোগাযোগ রাখছেন উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের সঙ্গেও।
জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী বাছির উদ্দিন রিপন বলেন, ‘যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান পরশ ভাইয়ের নেতৃত্বে সংগঠনের আলাদা ইমেজ তৈরি হয়েছে। আমি সেই ইমেজ কাজে লাগাতে চাই। দায়িত্ব পেলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করব।’
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাশেদ জাহাংগীর পল্লব বলেন, ‘কারা সংগঠনের জন্য কাজ করছেন, কর্মীরা ভালো জানেন। নেতৃত্ব পেলে যুবলীগকে আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করব।’
তবে নেতাকর্মীরা মনে করছেন জেলা কমিটির শীর্ষ পদে যুবলীগের বর্তমান নেতৃত্ব নাকি ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা আসবেন তা অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের ব্যক্তিগত আমলনামার ওপর।
