চট্টগ্রামে এবার গরু চুরি করতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে সংঘবদ্ধ চক্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে গরু চুরি করতে গিয়ে ধাওয়া খেলে স্থানীয় লোকজনকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। চন্দনাইশের জোয়ারা ইউনিয়নে ফতেনগর তালুকদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন মো. আরাফাত, ইব্রাহীম ইলিয়াস, সাজেদুল ইসলাম, মঈনুদ্দিন মিনার ও রবিউল হাছান। এর মধ্যে আরাফাত, সাজেদুল ইসলাম ও রবিউলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন খালেদ জানিয়েছেন, রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির গোয়ালঘরের গেট ভেঙে গরু বের করে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেললে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা।
চন্দনাইশে গরু চুরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাটি ভাবাচ্ছে জেলা পুলিশ প্রশাসনকেও। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘গরু চুরিতে চরিত্র পাল্টিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। বাধা পেলে গুলি ছুড়ছে তারা। চুরিতে ব্যবহার করছে মাইক্রোবাস।’
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত দুই মাসে বিভিন্ন উপজেলায় দেড় শতাধিক গরু চুরি হয়েছে। তবে সব ঘটনায় মামলা হয়নি। দু-একটি চুরির ঘটনায় জড়িত কয়েকজন অপরাধী ধরা পড়লেও উদ্ধার হয়নি গরু।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট থানায় গরু চুরির অভিযোগ দিয়ে ফল মিলছে না। গরু চুরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর রাতে হাটহাজারী থানাধীন উত্তর ফতেয়াবাদ এলাকায় গরু চুরির সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই কিশোর। তাদের হাটহাজারী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পরের দিন তাদের স্বীকারোক্তিমতে আরও দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফতেয়াবাদ এলাকায় মাইক্রোবাসে করে গরু চুরির কথা স্বীকার করলেও উদ্ধার করা যায়নি গরু। পরে ওই চারজনকে গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
জানা গেছে, প্রতি রাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রান্তিক চাষি ও ক্ষুদ্র খামারির গোয়াল ফাঁকা করে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। কখনো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, কখনো পাহারাদারকে মারধর করে গরু ‘ডাকাতি’ করছে সংঘবদ্ধ চক্র। চুরির কাজে ব্যবহার করছে ভুয়া নম্বর প্লেটের কালো গ্লাস পেপারে মোড়ানো মাইক্রোবাস।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও সেই মাইক্রোবাসের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। তবে পুলিশ সেই মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত সাড়ে ৫ মাসে গরু চুরির অপরাধে জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ২৮ জন। এর আগে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়নে গরুচোর সন্দেহে পাঁচ যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
চট্টগ্রামে গরু চুরি বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘রাতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। গরু চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’
গরু চুরির একটি মামলা তদন্তের সঙ্গে জড়িত পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন চুরি নয়, গরু ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে।
মাইক্রোবাসের ভেতরে কার্গো স্টাইল (যাত্রীর সিটবিহীন) বানিয়ে এবং সেটির আয়নায় কালো গ্লাস পেপার লাগিয়ে গরু চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে অপরাধী চক্র।’
