বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কাছে জাতীয় দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে অনুরোধ পত্র দিয়েছেন দেশসেরা আরচার রোমান সানা। সেটাও অনেক দিন হয়ে গেল। এ ব্যাপারে ফেডারেশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত তো নেয়ইনি, টঙ্গির ক্যাম্প ছেড়ে নিজ সংস্থা বাংলাদেশ আনসারের ক্যাম্পে যোগ দেওয়া রোমানের সঙ্গে কেউ যোগাযোগও করেননি।
বিষয়টি রবিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমে চাউর হওয়ার পর দেশ রূপান্তর যোগাযোগ করে আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি এম মইনুল ইসলামের সঙ্গে।
রোমানের কাছ থেকে অনুরোধ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অনুরোধ পেয়েছি ওর কাছ থেকে। এসব বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ও একটু সময় নিক। আমরাও একটু সময় নেই। এরপর ভেবেচিন্তে বিষয়টা দেখতে হবে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে জাতীয় দলে সিলেকশনের বিষয়টি হয় সম্পূর্ণ স্কোরিংয়ের মাধ্যমে। আমরা ট্রায়াল আয়োজন করি। সেখানেই স্কোরিং যারা ভালো করে তাদের জাতীয় দলে নেওয়া হয়। সে (রোমান) সর্বশেষ ট্রায়ালেও অংশ নেননি। জাতীয় দলে থাকতে হলে ট্রায়ালে পারফর্ম করতে হবে। না করে কেউ কখনই সুযোগ পাবে না। তাকে নিয়ম মেনেই আসতে হবে।’
রোমান দেশ রূপান্তরের কাছে জানিয়েছেন, জাতীয় দলে থাকা খেলোয়াড়রা মাসিক তিন হাজার টাকা বেতন পান, এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা পান ঘর ভাড়া হিসেবে। দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার প্রতিদানে দৈনিক ১০০ টাকা বেতন অবিশ্বাস্য।
ফেডারেশন সভাপতিও এটাকে দেশের সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করলেন, ‘এই দ্বৈণ্য দশা আমাদের দেশের বিষয়। স্পোর্টসে সরকার কত টাকা দেয়? আপনি যদি গাছে পানি না দেন, সাড় না দেন, যত্ন না করেন, কি করে ফল আশা করবেন। আমি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একজন সহ-সভাপতি হয়েও বলছি, আমাদের নীতিমালা আছে কোনো অ্যাথলেট অলিম্পিকের মতো আসরে স্বর্ণপদক জিতলে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আমার কথা হলো এই পুরস্কারের ঘোষণা কী মানে, যদি আমি সেই অ্যাথলেটকে ওই পর্যায়ে পদক জয়ের মতো করে গড়ে তুলতে না পারি?’
আরচারি ফেডারেশন সবসময় প্রশংসিত হয় দেশে-বিদেশে তাদের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে। অথচ আরচারদের কাটাতে হয় মানবেতর জীবন। অথচ ফেডারেশনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্পন্সর হিসেবে যুক্ত আছে একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন জাতীয় দলের আরচারদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মইনুল জানালেন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন করতে পারলে, তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানো যাবে।’
