ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিতে সবচেয়ে বড় দুইটি কারাগারে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার কারণে কারাগারগুলোতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় চার হাজার বন্দি পালিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৭২ ঘন্টার জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর পাঠিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স শহরে গত বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। গত শনিবার রাতে শহরের প্রধান দুটি কারাগারে হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা। সে সময় হাজার হাজার বন্দিকে মুক্ত করে দেয় সশস্ত্র দলগুলো।
কারাগারগুলোতে আটক প্রায় ৪ হাজার বন্দির অধিকাংশই পালিয়ে গেছে।
রবিবার কারাগার পরিদর্শনকারী এএফপি বার্তা সংস্থার একজন প্রতিবেদক বলেন, তারা কারাগারের বাইরে প্রায় এক ডজন লাশ দেখেছেন। কারাগারের প্রধান ফটক খোলা ছিল এবং ভেতরে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ছিল না।
এছাড়া বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও একই কথা জানিয়েছে যে, ওই হামলার পর রোববার কারাগারের দরজা খোলা ছিল এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কোনও চিহ্ন সেখানে ছিল না। তবে পালানোর চেষ্টা করা তিন বন্দি কারাগারের আঙিনার মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়েছিল।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে যে, একটি কারাগারে আটক থাকা কারাবন্দিদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত গ্যাং সদস্যরাও ছিলেন।
আমেরিকার দরিদ্রতম দেশ হাইতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা আরও খারাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া সশস্ত্র গ্যাংগুলো হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
গ্যাংগুলো বলছে, তারা হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরিকে উৎখাত করতে চায়। ২০২১ সালে হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে হেনরি ক্ষমতায় আছেন।
বুরকিনা ফাসোয় ৩ গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৭০ জনকে হত্যা