শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সক্রিয়দের নেতৃত্বে আনছে বিএনপি, আশাবাদী হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার পতনের আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের অনেকেই রাজপথের কর্মসূচিতে ছিলেন না। তবে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের এই সিদ্ধান্তে আশাবাদী হয়ে উঠছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম জোরদার হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সভায় বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোথায় ব্যর্থতা ছিল, কারা ব্যর্থ হয়েছে, তা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই মোতাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা রিপোর্ট তৈরি করবেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হবে।

বিএনপির দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করে বিএনপি। এ ছাড়া কাজী ছায়েদুল ইসলাম বাবুলকে ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। সামনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সংগঠন ঢেলে সাজানো হবে। পরিবর্তন আসতে পারে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে।

এ বিষয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভাগওয়ারী সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেভাবে কাজ করছি। শিগগিরই আমাদের রিপোর্ট দপ্তরে জমা দেব। ধারণা করছি রিপোর্ট দেখে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নতুন নেতৃত্ব উপহার দেবেন আগামীর আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করার জন্য।’

এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেখে আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের নেতারা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটির নেতারা ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। এখন তাদের মূল্যায়ন করেছে দল। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে যারা মাঠে থাকবে, তাদের মূল্যায়ন করা হলে আগামীর আন্দোলন-সংগ্রাম সফল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে এবারের আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপর ছিল। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠে ছিলেন। যারা মাঠে ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এটি খুবই ভালো খবর। এতে সংগঠন শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মাঠে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। 

বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাত সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নবগঠিত এই আংশিক কমিটিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরিফ প্রধান শুভ।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত এই আংশিক কমিটিতে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আক্তার শুভ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন।

নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে ছাত্রদল আন্দোলনের গণজোয়ার সৃষ্টি করবে। ছাত্রদলকে আমরা আরও বেশি সুসংহত ও সুসংগঠিত করার চ্যালেঞ্জ নেব। বিএনপির মূল শক্তি হিসেবে রাজপথে ভূমিকা পালন করবে ছাত্রদল। তারেক রহমানের নির্দেশনায় আন্দোলন-সংগ্রামে সোচ্চার থাকবে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী।’

সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘বর্তমানে ছাত্রদলকে রাজপথে অতীতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমরা সামনের রূপরেখা ঠিক করব। তৃণমূল থেকেই ছাত্রদলকে আরও বেশি সুসংহত করার প্রয়াস আমাদের রয়েছে। আশা করি আন্দোলনে আমরা দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারব।’

২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে সভাপতি ও সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছিল রাশেদ ইকবাল খানকে, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল আবু আফসান মোহাম্মাদ ইয়াহিয়াকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত