জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হল ও শেখ রাসেল হলের মধ্যবর্তী দেয়াল অপসারণকে কেন্দ্র করে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলার পর রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, নিরাপত্তা শাখা এবং আশুলিয়া ও সাভার থানা-পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহীদ রফিক-জব্বার হলসংলগ্ন রাস্তায় গত বছরের জানুয়ারিতে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করা হয়। ফলে যাতায়াতে অসুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের। সর্বশেষ গত সোমবার থেকে দেয়ালটি ভাঙার দাবিতে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচি শুরু করেন শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ৭ই মার্চ উপলক্ষে দেয়ালটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রাফিতি অঙ্কনের চেষ্টা করেন শহীদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা। সে সময় শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি অঙ্কনে বাধা দেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে তারা হলের ভেতরে চলে যান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দেখা যায়। রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থী কর্তৃক শেখ রাসেল হলের দিকে তিনটি পেট্রোল বোমা মারার ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিক-জব্বার হলের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজাউল ও নিশাত গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত বাকী শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানা যায়নি।
শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলসংলগ্ন রাস্তায় স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের কারণে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বটতলায় তাদের খাবার খেতে যেতে হয়। আসন্ন রমজান মাসে এই ভোগান্তি কমাতে তারা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে দেয়াল ভাঙার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু দেয়ালটি যাতে ভাঙা না যায়, সে জন্য রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেন। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
গত বছর হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে দেয়ালটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান শহীদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রাতের পর আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রফিক জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা দেয়ালের সমানেই মেশিন দিয়ে মাটি খননের কাজ শুরু করলে শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা পুনরায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। এতে রফিক-জব্বার হলের একাধিক জানালার কাচ ভেঙ্গে গেছে বলে অভিযোগ ওই হলের শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে বুধবার বেলা ১২টায় শহীদ রফিক-জব্বার হলের সমানে গিয়ে দেখা যায় মাটি খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি খননের কাজ চলছে। রাস্তার উপর মাটি খনন করে করে একটি নর্দমা তৈরি করে তাতে পানিও দেওয়া হয়েছে। তার পাশেই বড় একটি জায়গা জুড়ে মাটি খননের কাজ চলছে।
গতকাল রাতের সংঘর্ষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘দুই হলের রাস্তার মধ্যবর্তী একটি দেয়ালকে কেন্দ্র করে মূলত সংঘর্ষের শুরু। প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের থামানো যাচ্ছিল না। পরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি।’
