খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ধর্ষণের শিকার সেই তরুণীকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামের খালার বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চাঁচুড়ী পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে দেয়। এর একদিন আগে বুধবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গাজী এজাজ আহমেদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ওই তরুণীর খালাতো ভাই গোলাম রসুল বাদী হয়ে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার সারওয়ার হুসাইন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর খালাতো ভাই গত বুধবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর তরুণীটি নিরাপদে আছে কি না সে ব্যাপারে র্যাবের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামে মামার বাড়িতে থাকতেন ওই তরুণী। তার খোঁজে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সেখানে যায়। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে তারা জানতে পারেন, ভুক্তভোগী তার খালার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তাকে চাঁচুড়ী পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়।
তবে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত কুমার সাহা বলেন, ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আদালতে মামলার কোনো নির্দেশনাও এখনো হাতে পাইনি। তিনি বলেন, তরুণী অপহরণ বা ধর্ষণের কোনো অভিযোগ নিয়ে এ পর্যন্ত কেউ থানায় জিডি অথবা মামলা করতে আসেনি। ভুক্তভোগী বা তার পরিবারও কখনো কোনো অভিযোগ দেননি।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই গোলাম রসুল বাদী হয়ে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী এজাজ আহমেদ এবং তার চাচাতো ভাই স্থানীয় রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত অন্য পাঁচ আসামি হলেন, গাজী আব্দুল হক, আলামীন গাজী,আক্তারুল আলম সুমন, সাদ্দম গাজী ও মো. ইমরান হোসেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, মামলায় চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ ৬ জনকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিকটিম নারীকে আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার সময় ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গাজী এজাজ আহমেদ শাহপুর বাজারে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে সেদিন রাতেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন ভুক্তভোগী। পরে ওসসি থেকে বের হলে ভুক্তভোগী ও তার মাকে অপহরণ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, উক্ত দিন ছাড়াও ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে এর আগেও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
