রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ দুজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে, তারা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করলেও বিস্তারিত তদন্ত করছে পুলিশ। মরদেহ তিনটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন, কদমতলীর গৃহবধু রুবিনা রিমি (২২) ও গুলশানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মুসকান মিম (২৩)।

মৃত রুবিনা রিমির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিনাত রেহানা উল্লেখ করেন, রুবিনার বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলায়। বাবার নাম রুস্তম আলী। বর্তমানে কদমতলী উত্তর মুরাদপুর হাজী লাল মিয়া রোডে একটি বাড়িতে স্বামী মো. স্বপন মিয়ার সাথে থাকতেন।

আজ শনিবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাসা থেকে শায়িত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামী দাবি করেছেন, তার সাথে মনোমালিন্য করে মধ্যরাতে গ্রিলের সাথে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন রুবিনা।

রুবিনার ভগ্নিপতি মো. আল-আমিন জানান, এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন রুবিনা। রাতে রুবিনার স্বামী নিজেই তাদেরকে ফোন দিয়ে জানায়, রুবিনা আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই বাসায় গিয়ে রুবিনার মরদেহ দেখতে পান। রুবিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছে তার স্বামী। তবে আমাদের সন্দেহ তার স্বামী মেরে ফেলেছে তাকে।

অপরদিকে, মৃত মুসকান মিমের বাড়ি পটুয়াখালির গলাচিপা উপজেলার পূর্বপানপট্টি গ্রামে। বাবার নাম ফরিদ হাওলাদার। মুসকানের বড় বোন সুবর্ণা বেগম জানান, মুসকান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মুসকান একা একা গুলশান সুবাস্তু নজর ভ্যালির ১৫ তলায় একটি বাসায় থাকতেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুসকান নিজেই ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলাম হৃদয়কে ফোন করে জানান, তার প্রচন্ড পেটব্যাথা করছে। এর কিছুক্ষণ পর ভগ্নিপতি গুলশানের ওই বাসায় গিয়ে মুসকানকে স্থানীয় পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখেন মধ্যরাতে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে মুসকান তাদেরকে জানিয়েছিলেন, পোকামাকড় নিধনের কিটনাশক পান করেছেন তিনি।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া মুসকানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি গুলশান থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত