সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রক্টরের পদত্যাগসহ পাঁচ দাবিতে জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৫:০৮ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অপরাধ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষকে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতিসহ পাঁচ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (১১ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টা থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এ সময় কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে এ অবরোধ কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলো হলো মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্ত করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা, নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমানের (জনি) বহিষ্কারাদেশের প্রজ্ঞাপন জারি ও অফিস আদেশ প্রণয়ন করতে হবে এবং ইতিপূর্বে যৌন নিপীড়ন সেলে উত্থাপিত সব অমীমাংসিত অভিযোগসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আন্দোলনকারী একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার পর পাঁচ দফা দাবি জানানো হলে ভিসি দাবিগুলো যৌক্তিক স্বীকার করে সবকিছু মেনে নেবেন বলে জানান। কিন্তু আমরা প্রশাসন থেকে সদিচ্ছা দেখতে পাইনি। মশাল মিছিল পরবর্তী প্রক্টরের বিষয়ে ভিসির নিকট দায়মুক্তির অভিযোগ পেশ করা হলেও গত সিন্ডিকেটে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়। স্বাভাবিক আন্দোলনে প্রশাসনের টনক নড়ে না তাই প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করতে আন্দোলনকারীরা বাধ্য হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্ষণকাণ্ড ও দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় নিষ্ক্রিয় থাকা প্রক্টরকে দায়িত্বচ্যুত করার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপচার্য আমাদেরকে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হলে প্রক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। গতকাল সিন্ডিকেট সভায় প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ উল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত