জম্মু-কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনবেন মোদি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম

২০১৯ সালে বিতর্কিত কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসন রদ করে নয়াদিল্লি সরাসরি এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) প্রথমবারের মতো জম্মু-কাশ্মীর সফর করেছেন। 

রাজধানী শ্রীনগরের এক ফুটবল স্টেডিয়ামে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মোদি নানা উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করেন এবং বলেন এই অঞ্চলের অধুনা-বাতিল বিশেষ মর্যাদা নিয়ে আগের সরকারগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের সাফল্যের গল্প বিশ্বের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।’ 

২০১৯ সালের পদক্ষেপের পর এই অঞ্চল সমৃদ্ধশালী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, ‘আমি সব সময় বলেছি, আপনাদের হৃদয় জয় করার জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। আপনাদের হৃদয় জিততে আমি আরও কাজ করে যাব।’

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারতের মাথা হচ্ছে কাশ্মীর। তার মতে, এখানকার উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না। উন্নত ভারতের জন্য একটি উন্নত জম্মু ও কাশ্মীর তার সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরেন।

ঢালাও উন্নয়নের বার্তা দিতে গিয়ে মোট ৫৩টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এই প্রকল্পগুলো কাশ্মীরের উন্নয়নে সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেশের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে রেলপথে জম্মু কাশ্মীরকে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সেদিন উদ্বোধন করা হয় বানিহাল-খারি-সাম্বার-সাঙ্গলদান অংশের। ৪৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশেই আছে দেশের দীর্ঘতম রেলপথ সুড়ঙ্গ, যা ১২.৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।

জম্মু-কাশ্মীরের কৃষিজ উন্নয়ন নিয়ে মোদি বলেন, পাঁচ হাজার কোটি টাকার কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচিতে আগামী ৫ বছরে জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে। বিশেষ করে উদ্যানশিল্প এবং গবাদিপশু পালনে। এই উদ্যোগে কয়েক হাজার সুযোগ তৈরি হবে।

এই অঞ্চলে নির্বাচন আয়োজন বা রাজ্য হিসেবে পুনরায় একে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে মোদি তার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেননি, অথচ কাশ্মীরের ভারতপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এই দুটি দাবি নিয়ে সরব। ২০১৪ সালে শেষবার এই অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কিন্তু ২০১৮ সালে নির্বাচিত সরকারকে বাতিল করা হয়।

২০১৯ সালে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বাধীন সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা রদ করে, তাদের পৃথক সংবিধান বাতিল করে। এই অঞ্চলকে দুটি ফেডারেল ভূখণ্ডে (লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর) ভাগ করে বর্তমানে অনির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তা ও আমলারা পরিচালনা করেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনের পর এই অঞ্চল তার রাজ্য-পরিচয় ফিরে পাবে। ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকারকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত