ইচ্ছা থাকলেই সঞ্চয় হয়

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩৫ এএম

সঞ্চয় করা কঠিন নয়। সেটা অল্প হোক বা বেশি। অনেকে কর্মজীবী ভাবেন আগে সমস্যা কাটুক তারপর সঞ্চয়। এ ভাবনা বাদ দিতে হবে। অনেক টাকা জমানোর অভ্যাস বাদ দিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে হবে। ধারদেনা থাকলে সঞ্চয় কঠিন হয়ে যায়। ঋণ থাকলে যা আয় হচ্ছে, তার একটা অংশ শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। এ কারণে ঋণ থাকলে প্রথমেই সেটা শোধ করে, এরপর সঞ্চয় করা উচিত। প্রতিদিনই খরচের হিসাব নির্দিষ্ট স্থানে সেটা লিখে রাখতে হবে। তাহলে সঞ্চয় করা সহজ হবে। হিসাব থাকলে টাকার ওপর আমাদের ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণও থাকে। তাই হিসাব রাখতে হবে প্রতিদিন। কোনটা চাহিদা আর কোনটা প্রয়োজন এই পার্থক্য বুঝুন। ঝোঁকের মাথায় হঠাৎ যে খরচগুলো করলেন, সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে সেটাই বড় বাধা। সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রথমেই দেখতে হবে, কোন জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, আর কোন চাহিদাটা পরেও পূরণ করা যাবে। অনেকেরই আছে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড। খরচ করার সময় যতটা সম্ভব কার্ড এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ কার্ডে খরচের পরিমাণটা বাড়ে। ক্যাশ টাকায় কেনাকাটার ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা নেই, আর খরচ করার সময়েও টাকার ঠিকঠাক হিসাব থাকে। এই মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে যে আগে সঞ্চয়, পরে খরচ। উপার্জন যাই হোক না কেন মাসের শুরুতেই সেটাকে ৫০, ৩০, ২০ এই অনুপাতে ভাগ করে ফেলুন। ৫০ ভাগ টাকা অতি প্রয়োজনীয় খরচের  জন্য বরাদ্দ রাখুন, বাকি ৩০ ভাগ রাখুন বিনোদন বা অন্য কোনো খরচের জন্য, আর ২০ ভাগ রাখুন সঞ্চয়ের জন্য। মাসের শুরুতেই কিছু টাকা সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

সঞ্চয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ করতে পারলেও ভালো। কিছু বাড়তি টাকা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। শুরুতে অল্প টাকা বিনিয়োগ করা উচিত। আর থাকতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যেমন হতে পারে, সেটা ছোট কোনো ব্যবসা, স্টক মার্কেট বা বন্ড। তবে অল্প পরিমাণে করা উচিত, যাতে লোকসান হলেও বড় কোনো বিপদে না পড়তে হয়। কাঁচাবাজার ছাড়া মাসের খরচটা একেবারে করে ফেলুন। বারবার কিনতে গেলে খরচ বেশি হয়। অনেক সময় ছাড়ে কিনতে গিয়ে অনেকেই দরকারের চেয়ে বেশি কিনে ফেলেন। এটা করা যাবে না। একবারে বাজার করলে কিছু টাকা সাশ্রয় হয়। প্রিয়জনকে উপহার দিন বুঝেশুনে। সামর্থ্যরে বাইরে গিয়ে দামি উপহার দিয়ে নিজের পকেটে টান ফেলার কোনো মানেই হয় না। একবারে সবাইকে দিতে না পারলে ভাগ ভাগ করে দিন। প্রয়োজনে ছোট উপহার দিন। অযথা বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। খরচ সাশ্রয় হবে পাশাপাশি শরীরও ভালো থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত