টি-টোয়েন্টি সিরিজের হারের ক্ষত ঝেড়ে ফেলে চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হওয়ার আগে অধিনায়ক শান্ত বলেছিলেন তার বোলারদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। টস হেরে আগে বোলিং করা বাংলাদেশি বোলাররা অধিনায়কের কথার মান রেখেছেন। ৫০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কাকে আটকে রেখেছেন ২৫৫ রানে।
প্রথম দশ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাথুম নিশাঙ্কা মিলে শরিফুল ইসলামদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তাতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতে শ্রীলঙ্কার ওপেনিং জুটিতে উঠেছে ৭১ রান। একচ্ছত্র ভাগ থাকার কথা ছিল শ্রীলঙ্কারই। শেষে এসে তা হতে দিলেন না তানজিম হাসান সাকিব। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে রানের চাকার গতি কিছুটা হলেও মন্থর করেছেন এই ক্রিকেটার।
আঁটসাঁট লাইনে আভিস্কাকে একটু হতাশ করেছেন তানজিম। এরপর অফ স্টাম্পের বাইরে করেছিলেন। তাতে ব্যাট ছুড়েছিলেন আভিস্কা। কানায় লেগে উইকেটের পেছনে গেছে ক্যাচ। মুশফিক ভুল করেননি। ৩৩ রানে ফিরে যান আভিস্কা।
নিজের পরের ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। গালিতে ছিলেন ফিল্ডার সৌম্য সরকার। সাকিবের শর্ট বলে পুল করতে গিয়েছিলেন নিশাঙ্কা। তবে শট খেলে ফেলেন বেশ আগেই। ব্যাটের একেবারে নিচের দিকের কানায় লেগে ক্যাচ গেছে সৌম্যর কাছে। প্রস্তুত ছিলেন সৌম্য। তবুও অবাক হয়ে গেছেন ক্যাচ নেওয়ার পর। এমন শটে সেখানে ক্যাচ যাবে সেটি ঠিক স্বাভাবিক নয়। পরপর ২ ওভারে দুই থিতু ওপেনারকে ফেরালেন তানজিম। নিশাঙ্কা থামলেন ২৮ বলে ৩৬ রান করে।
৩ ওভারে তানজিমের ৩ উইকেট! সর্বশেষ তার শিকার সাদিরা সামারাবিক্রমা। ভেতরের দিকে ঢোকা বলে মিডউইকেটের দিকে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন সামারাবিক্রমা। সফল হননি। ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ গেছে উইকেটের পেছনে। বলের লাইন অনুসরণ করে লেগ সাইডে সরে যাওয়া মুশফিক ডান দিকে ডাইভ দিয়ে নেন দারুণ ক্যাচ।
মিরাজ এসে ফেরান চারিথ আসালাঙ্কাকে। এরপর পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন কুশল মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া কুশল মেন্ডিসকে থামান তাসকিন আহমেদ। কুশল মেন্ডিস ৫৯ রান করেন ৭৫ বলে। ৫টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন ইনিংসে। ৩ ওভারের স্পেলে আরও দুটো উইকেট নেন তাসকিন। ডিপ থার্ডে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ বানান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। আর স্লিপে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন মাহিশ থিকশানা। ২২৫ রানে সপ্তম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংসের দ্বিতীয় ও ৭ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তৃতীয় ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন জানিথ লিয়ানাগে। তাকে থামান শরিফুল। ৬৯ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৬৭ রান আসে তার কাছ থেকে। লঙ্কান ইনিংসের সর্বোচ্চ রানও এটি। নিজের পরের ওভারে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়ে শরিফুল সাজঘরে ফেরান প্রমোদ মাদুশানকে। ২ বল পর মাদুশঙ্কাকে ফিরিয়ে তিনিও তুলে নেন তৃতীয় শিকার। শেষ ৩৪ রানে ৫ উিইকেট হারিয়ে অলআউট হতে হয় লঙ্কানদের।
চট্টগ্রামে প্রথম ওয়ানডে জিতে সিরিজে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের করতে হবে ২৫৬ রান।
