ওপেন হার্ট সার্জারির কারণে তিন মাসের বেশি সময় ফুটবল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। এর মধ্যেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলকে দেখেছেন সাফের দুটি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে। ২০২২ সালে সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বয়সভিত্তিক ফুটবলেও দক্ষিণ এশিয়ায় নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই সুস্থ হয়ে বুধবার প্রথম বাফুফে ভবনে এসে সালাউদ্দিন জোর গলায় বলেছেন- বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে নিঃসন্দেহে সেরা।
ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই আসরে ভারতের সঙ্গে শিরোপা ভাগাভাগি করে নেয় বাংলাদেশ। আর সম্প্রতি নেপালে হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরে সেই ভারতকেই টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশের মেয়েরা। সালাউদ্দিন তাই ভীষণ খুশি। মেয়েদের ফুটবলের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে তার মনে কোনো দ্বিধা নেই, ‘মেয়েরা অনেক ভালো করছে। মেয়েরা যেটা করেছে তার জন্য মাহফুজা আক্তার কিরণের কমিটিকে অভিনন্দন জানাই। কারণ মেয়েরা প্রমাণ করেছে, তারা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা। তারা সিনিয়র সাফ জিতেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৬ জিতেছে। আমাদের মেয়েরা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রশ্নাতীত সেরা, এটা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’
অসুস্থ থাকাবস্থায় মেয়েদের জয়োৎসব দেখেছেন। খোঁজখবরও নিয়েছেন। আবার পারফরম্যানস মনপুত না হওয়ায় কোচকে বকাঝকাও করেছেন। সালাউদ্দিন নিজেই জানালেন, ‘আমি কোনো কিছু মিস করিনি। আমি সব দেখেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ দেখেছি, অনূর্ধ্ব-১৬ও দেখেছি। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ দেখার পরে আমি কোচের (সাইফুল বারী টিটুকে) সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেছি। কারণ খেলার মান আমার পছন্দ হয়নি। আমরা ট্রেনিং করাই মানসম্মত খেলার জন্য।’
একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনারের ভুলে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের দুঃখজনক পরিসমাপ্তিও চোখ এড়ায়নি তার। তিনি যে একই সঙ্গে সাফেরও সভাপতি। এই ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার চিন্তায় ছিল এই ভুল কেন হবে? যদি আমাদের দিক থেকে কোনো ভুল থাকত, তাহলে আমি পুরো অফিসকে চাকরিচ্যুত করতাম। পরে যখন জানলাম, কে করেছে তখন চুপ হলাম। তবে অফিস যদি করতো আমি নিশ্চিত ৪-৫ জনের চাকরি খেয়ে ফেলতাম। এই ধরনের ভুল তো কোনোভাবেই হতে পারে না।’
