'এক বছর আগে ৫ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে দুইটা ছাগল কিনছিলাম। প্রথমে একটি ছাগল চারটি বাচ্চা প্রসব করে। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে ১২টা ছাগল হয় আমার। এখন ছাগলগুলোর দাম হবে প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। তাতে বুঝছি ছাগল পালা খুব লাভজনক।' কথাগুলো বলছিলেন, তিস্তা পাড়ের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম। মঞ্জুরুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তা নদীর অববাহিকার গোড়াইপিয়ার এলাকার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় ছাগল পালন করলে বাড়তি কোনো খাবার দিতে হয় না। সকালে ছাগল চরে ছেড়ে দিই, বিকেলে গিয়ে নিয়ে আসি। চরের ঘাস খেয়েই ছাগলগুলো বড় হয়। রোগবালাইও কম হয়।
মঞ্জুরুল বলেন, আমাদের এখানে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ছাগল আছে। সবাই কম বেশি ছাগল পালন করে। যেমন আমি কৃষি কাজ করি, পাশাপাশি ছাগল পালন করার কারণে বাড়তি আয় করছি। এ জন্য সংসারও ভালো চলছে।
ওই এলাকার তাজুল ইসলাম নামের একজন বলেন, আমি কৃষি কাজ করি। আমার বাড়িতেও ৭টা ছাগল আছে। প্রথমে একটা ছাগল ছিল, আস্তে আস্তে এখন ৭টা ছাগল হয়েছে। কয়েকটি ছাগলের যত্ন নিচ্ছি ঈদের আগে বাজারে বিক্রি করবো।
এই চরের শুধু মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম নন, তাদের মতো শত শত নারী পুরুষ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পারিবারিকভাবে দেশীয় জাতের ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বিশেষ করে ছাগল পালনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
কুড়িগ্রামে চর ও দ্বীপ চর মিলে প্রায় চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চলসহ জেলার ৯ উপজেলায় প্রায় ৯ লাখ বিভিন্ন জাতের ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই চরাঞ্চলের। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ২৫৫টি ছাগল রয়েছে। এদিকে বেড়া রয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৫টি। অন্যদিকে জেলায় ছোট বড় ছাগলের খামার রয়েছে ৬১০টি ও ভেড়ার খামার রয়েছে ৬৪টি।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিছিন্ন। এখানে ছোট বড় অসংখ্য চর রয়েছে। তবে চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে তারা গৃহীত পালিত গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। চরে গবাদিপশু পালনে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হয় না বলে জানান তিনি। তাই দিন দিন চরে গবাদিপশু পালন বৃদ্ধি পাচ্ছে চরাঞ্চলে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী বলেন, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চলে চারণভূমি থাকার কারণে বিভিন্ন গবাদিপশু পালন সহজ হয়েছে তাদের। যার কারণে ছাগল, ভেড়া ও গরু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে চরের মানুষ। আমাদের লোকজন তাদের পরামর্শের পাশাপাশি ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ওষুধ বিতরণ করছে নিয়মিত।
এক এসএমএসকে কেন্দ্র করে সংসার ভেঙেছে মাহির!
নান্দাইল বাজারে গভীর রাতে আগুনে পুড়ল ১০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান