গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, পরিবারের সবাই পালিয়েছে

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৪, ০১:১০ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে ইয়াসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাাদাদিয়া গ্রামের আবু হেনা বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই বাড়ির ফকির আহমদের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মেহেদী হাসানের স্ত্রী। ইয়াসমিন আক্তারের ৩ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

খবর পেয়ে রাতে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর নিহতের শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর-ভাসুরের স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন পলাতক।

গৃহবধূর মা রোশনারা বেগমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী তার মেয়েকে নানাভাবে যন্ত্রণা দিয়েছে। এসব নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বৈঠকও হলেও কোনো সমাধান হয়নি। 

তিনি জানান, যৌতুক দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, আরও যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

গৃহবধূর ছোট বোন ফাহিমা আক্তার জানান, মাগরিবের নামাজের পর লোকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বোন মারা গেছে। বোনের স্বামীর বাড়ি ভাদাদিয়া গ্রামে পৌঁছে তার কক্ষের খাটের ওপর বোনের নিথর দেহ দেখতে পাই। তারা সেখানে পৌঁছার আগেই ইয়াসমিন আক্তারের ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। আমার বোন স্বামীর পরিবারের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার আমাদের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। সবাই তাকে বুঝিয়ে আবার শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়েছে। ফাহিমার দাবি, তার বোনকে স্বামীর পরিবারের লোকজন হত্যা করেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সুদীপ রায় বলেন, লাশ উদ্ধারের পর রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বুঝা যাবে এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত