জবিতে শিক্ষার্থীবান্ধব সক্রিয় যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকরের দাবি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ০৪:২২ পিএম

স্বাধীন, শিক্ষার্থীবান্ধব ও প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সক্রিয় যৌন ও সকল প্রকার নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গণে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যথার্থ মানবিক সম্পর্ক, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার ছাড়া সামগ্রিকভাবে একটি বিকল্প সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা হত্যার সমস্ত প্রমাণ আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এবং রাষ্ট্রীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অংকন বিশ্বাসসহ পূর্বে দায়েরকৃত সকল অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পূর্বতন প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ফাইরুজ অবন্তিকা এবং অংকন বিশ্বাসের স্মৃতিতে ক্যাম্পাসে দুটি স্থায়ী ফলক নির্মাণ করতে হবে।

ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ সোবহান সাকিব বলেন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল স্বাধীনভাবে এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে তার কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারা শিক্ষার্থীরা যে ধরণের সামাজিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের বাইরে এই সেল স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রক্টরিয়াল বডির প্রভাবমুক্ত সেল গঠন করতে হবে। এই সেল সরাসরি উপাচার্য মহোদয় কর্তৃক পরিচালিত হবে। সেলের কমিটিতে রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকবে। এই সেলে বহিঃসদস্য হিসেবে কমপক্ষে একজন আইনজীবী ও একজন মানবাধিকার কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এই সেল শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে, সিন্ডিকেট মিটিংয়ের অপেক্ষা না করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে সাময়িক বহিষ্কার করবে।

তিনি আরও বলেন, এই নিপীড়ন বিরোধী সেল অভিযোগকারী বা ভিক্টিমের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে। যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি সকল প্রকার নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করতে এই সেল বাধ্য থাকবে। প্রত্যেক মাসে কমপক্ষে একবার এই সেল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ‘মতবিনিময় ও জবাবদিহি’ সভার আয়োজন করবে।

এ ছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বিবিএ ভবনে অবন্তীকা ফাইরুজ এবং কলা ভবনে অংকন বিশ্বাসের গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত