ফিলিস্তিন মোটেই অজানা প্রতিপক্ষ নয় বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা হয়েছে একাধিকবার। সব মিলিয়ে ছয়বারের দেখায় শেষ পাঁচটিতেই হারের তেতো স্বাদ সঙ্গী হয়েছিল। অথচ ২০০৬ সালে ঢাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে প্রথম সাক্ষাৎ শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে। আজ আবারও সামনে ফিলিস্তিন। শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা দলটির জয়রথ থামাতে কুয়েতে বদলে যাওয়া ফুটবল খেলতে হবে হাভিয়ের কাবরেরার বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে। ফিলিস্তিনের জয় ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। গ্রুপের সেরা দুইয়ে থাকতে হলে আজ জিততেই হবে আগের দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া ফিলিস্তিনকে।
ফিলিস্তিন দলে নিয়মিত খেলা বেশ কজন চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। ডেনমার্ক যুব দলে খেলা ওয়েসাম আবু আলি কায়রোতে ক্যাম্পে মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে অভিষিক্ত হতে পারছেন না। তবে কাবরেরা বিশেষভাবে বলেছেন তামের সেয়ামের কথা। এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আশা কোচের, ‘তাদের একজন ভালো ফরোয়ার্ড আছে তামের সেয়াম খেলতে পারবে না। এর বাইরেও নিয়মিতদের কয়েকজন দলে নেই। তবে যারা আছে তাদের সামনে সুযোগ ফিলিস্তিনের হয়ে নিজেদের প্রমাণ দেওয়ার।’
দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থেকেও জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের দলে নাম লিখানোর বড় খেসারত তাকে দিতে হয়নি কোচ কাবরেরার বদান্যতায়। সুযোগে সদলবলে একটা ভালো ম্যাচ উপহার দেওয়ার কথা বললেন এই মিডফিল্ডার, ‘শেষ ১৬-১৭ দিন আমরা অনেক অনুশীলন করেছি। এক সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। কাল (আজ রাতে) আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সবাই খুব ইতিবাচক আছে। আমরা একটা ভালো ফল চাই বলেই লম্বা সময় প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা জানি ফিলিস্তিন কতটা ভালো দল। তারা এশিয়ান কাপে অনেক ভালো খেলেছে। গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আমাদের কোচ ইতিমধ্যে আমাকে সতর্ক করেছে যে ওরা শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী। আমাদের সেটপিস, ক্রসিং এড়িয়ে যেতে হবে যতটা সম্ভব। কারণ ওদের ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় ছয় ফুট উচ্চতার ওপরে। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে, যেটা কোচ আমাদের করতে বলবে, সেটা করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।’
ফিলিস্তিন যেমন কজন কার্যকরী খেলোয়াড়ের সার্ভিস এই ম্যাচে পাবে না, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। গত কয়েক বছরে দলের রক্ষণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা তারিক কাজী রায়হান দলের সঙ্গে নেই চোটের কারণে। এছাড়া আক্রমণভাগে ফর্মে থাকা তরুণ শেখ মোরসালিনকেও মিস করবে লাল-সবুজরা। এসব মেনেই ২০০৬-এর মতো ফিলিস্তিনকে রুখে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একটা পজিটিভ ফল বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে ২৬ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষেই দেবে ভালো ফুটবলের রসদ।
