আজ কি ভাঙবে হারের বৃত্ত

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০১:২৯ পিএম

ফিলিস্তিন মোটেই অজানা প্রতিপক্ষ নয় বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা হয়েছে একাধিকবার। সব মিলিয়ে ছয়বারের দেখায় শেষ পাঁচটিতেই হারের তেতো স্বাদ সঙ্গী হয়েছিল। অথচ ২০০৬ সালে ঢাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে প্রথম সাক্ষাৎ শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে। আজ আবারও সামনে ফিলিস্তিন। শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা দলটির জয়রথ থামাতে কুয়েতে বদলে যাওয়া ফুটবল খেলতে হবে হাভিয়ের কাবরেরার বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে। ফিলিস্তিনের জয় ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। গ্রুপের সেরা দুইয়ে থাকতে হলে আজ জিততেই হবে আগের দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া ফিলিস্তিনকে।

দুই দলের সংগ্রহ সমান ২ ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হারার পর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ১-১ গোলে রুখে দেয় লেবাননকে। লেবাননের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করেও ফিলিস্তিনকে হারতে হয় ১-০ তে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বে টিকে থাকতে তাই দুদলেরই পয়েন্ট চাই। র‌্যাংকিংয়ে ৮৬ ধাপ এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনের চাওয়া পূর্ণ তিন পয়েন্ট। বাংলাদেশের জন্য এক পয়েন্টই আসবে জয়ের মাহাত্ম্য নিয়ে।
 
ফিলিস্তিনের সঙ্গে শেষ দুই সাক্ষাৎ হয়েছিল ঘরের মাঠে। দুবারই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে (২০১৮ ও ২০২১ সালে) হার ২-০ ব্যবধানে। ফিলিস্তিন অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে এশিয়ান কাপের দ্বিতীয়পর্বে নাম লিখিয়েছিল সম্প্রতি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়পর্বে এসে তারা জোর লড়াই করে স্বাগতিক কাতারের কাছে হার মানে। এমন প্রতিপক্ষের কাছে বাংলাদেশের হারের পক্ষেই বাজি ধরার লোক বেশি। তবে কুয়েত সিটির জাবেদ আল আহমাদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ চাইবে প্রত্যাশিত ফল পাল্টে দিতে। যার জন্য গত ১৬-১৭ দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে সৌদি আরবে আবাসিক ক্যাম্প করে কুয়েতে ম্যাচটা খেলতে গেছে বাংলাদেশ। সৌদিতে সুদানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলেছিল। যার প্রথমটিতে সুদানকে রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৩-০ ব্যবধানে। তাতে অবশ্য ফিলিস্তিনিদের নির্ভার থাকার সুযোগ নেই। লেবাননকে ঘরের মাঠে থমকে দেওয়া এই বাংলাদেশকে নিয়েও থাকতে হবে সতর্ক।
 
ভালো একটা প্রস্তুতির পর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা দিলেন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি, ‘দলের সবাই ভীষণ ইতিবাচক। সৌদিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় আগে প্রস্তুতির শুরু। সেখানে ১১টি সেশন এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। কুয়েতে এসে ইতিমধ্যে দুটি সেশন হয়েছে। আরেকটি আজ (বুধবার রাতে) ম্যাচ ভেন্যুতে হবে। অবশ্যই অনুশীলনের সময় নিয়ে আমাদের কোনো অনুযোগ নেই। আমাদের হাতে ২৮ জন শতভাগ প্রস্তুত খেলোয়াড় আছে। আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী এবং একটা ইতিবাচক ফলাফলের জন্য ছেলেদের সেরাটা দিয়ে লড়াইয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশ্বস্ত।’
 

ফিলিস্তিন দলে নিয়মিত খেলা বেশ কজন চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। ডেনমার্ক যুব দলে খেলা ওয়েসাম আবু আলি কায়রোতে ক্যাম্পে মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে অভিষিক্ত হতে পারছেন না। তবে কাবরেরা বিশেষভাবে বলেছেন তামের সেয়ামের কথা। এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আশা কোচের, ‘তাদের একজন ভালো ফরোয়ার্ড আছে তামের সেয়াম খেলতে পারবে না। এর বাইরেও নিয়মিতদের কয়েকজন দলে নেই। তবে যারা আছে তাদের সামনে সুযোগ ফিলিস্তিনের হয়ে নিজেদের প্রমাণ দেওয়ার।’

দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থেকেও জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের দলে নাম লিখানোর বড় খেসারত তাকে দিতে হয়নি কোচ কাবরেরার বদান্যতায়। সুযোগে সদলবলে একটা ভালো ম্যাচ উপহার দেওয়ার কথা বললেন এই মিডফিল্ডার, ‘শেষ ১৬-১৭ দিন আমরা অনেক অনুশীলন করেছি। এক সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। কাল (আজ রাতে) আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সবাই খুব ইতিবাচক আছে। আমরা একটা ভালো ফল চাই বলেই লম্বা সময় প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা জানি ফিলিস্তিন কতটা ভালো দল। তারা এশিয়ান কাপে অনেক ভালো খেলেছে। গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আমাদের কোচ ইতিমধ্যে আমাকে সতর্ক করেছে যে ওরা শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী। আমাদের সেটপিস, ক্রসিং এড়িয়ে যেতে হবে যতটা সম্ভব। কারণ ওদের ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় ছয় ফুট উচ্চতার ওপরে। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে, যেটা কোচ আমাদের করতে বলবে, সেটা করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।’

ফিলিস্তিন যেমন কজন কার্যকরী খেলোয়াড়ের সার্ভিস এই ম্যাচে পাবে না, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। গত কয়েক বছরে দলের রক্ষণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা তারিক কাজী রায়হান দলের সঙ্গে নেই চোটের কারণে। এছাড়া আক্রমণভাগে ফর্মে থাকা তরুণ শেখ মোরসালিনকেও মিস করবে লাল-সবুজরা। এসব মেনেই ২০০৬-এর মতো ফিলিস্তিনকে রুখে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একটা পজিটিভ ফল বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে ২৬ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষেই দেবে ভালো ফুটবলের রসদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত