পোশাকের বাজার বাড়ছে সৌদি, তুরস্ক ও চীনে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র চীনে পোশাকের বাজার বাড়ছে। পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের কমদামি পোশাকে আগ্রহ বেশি দেশটির। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শুধু চীন নয়, পোশাক রপ্তানিকারক দেশ তুরস্কও বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে অপ্রচলিত বাজার সৌদি আরবেও। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ২৪ কোটি ১৭ লাখ ডলারের পোশাক নিয়েছে চীন। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পোশাক নিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে।

চীনে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি নিট পোশাকে। প্রথম আট মাসে এ দেশটিতে নিট পোশাকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে ওভেন পোশাকের প্রবৃদ্ধি ৪৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এ দেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ওভেন পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলারের, গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৯ কোটি ৫১ লাখ ডলারের পোশাক। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি আয় হয়েছে ১০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের, আগের বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলারের।

শুধু চীনই নয় অপ্রচলিত বাজারের তালিকায় থাকা সৌদি আরব ও তুরস্কেও বাংলাদেশের পোশাকের বাজার বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সৌদিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ১৯ শতাংশ, তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সৌদিতে প্রথম আট মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। সৌদিতে বাংলাদেশের ওভেন পোশাকের প্রবৃদ্ধি বেশি, ৪৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, যেখানে নিট পোশাকের প্রবৃদ্ধি ৪৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। চলতি বছর প্রথম আট মাসে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারের, আগের বছরে এ সময়ে তা ছিল ৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের। দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ডলারের, আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের।

আরেক অপ্রচলিত বাজার তুরস্কে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৭ কোটি ডলারের, গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দশে থাকা এ দেশটিতে বাংলাদেশি নিট পোশাকের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। আট মাসে তুরস্কে নিট পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ১৭ লাখ ডলারের, আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের। বছরের ব্যবধানে তুরস্কে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৮৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ওভেন পোশাকের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে তুরস্কে। প্রথম আট মাসে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের। অর্থাৎ দেশটিতে ওভেনের রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, এ আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ২৩ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এ রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ মহাদেশের স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড এবং ডেনমার্কে পোশাকের রপ্তানি যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬৮, ৪ দশমিক ৭২, ১৪ দশমিক ৫৫, ২১ দশমিক ৮২ এবং ৩২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এসব দেশে বাড়লেও ইতালিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাকের বাজার জার্মানি। এ বাজারে ২০২২-২৩ সালের জুলাই-ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। এ বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। পোশাকের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

তৈরি পোশাকের প্রধান দুই গন্তব্যে কমলেও আরও দুই প্রধান বাজার কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাংলাদেশের পোশাকের ৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন এবং ৯৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে পোশাকের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ  এবং কানাডায় ১ দশমিক ৮১ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারির মধ্যে, অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এসব বাজারে রপ্তানি আয় ছিল ৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি যথাক্রমে ৭ দশমিক ১২, ২১ দশমিক ২৯ এবং ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে আমাদের পোশাক রপ্তানি ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত