মোরসালিনের আক্ষেপ মোরসালিনের স্বস্তি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:১১ পিএম

দেশের ফুটবলের খোঁজ খবর যারা নিয়মিত রাখেন, গত বছর ২১ নভেম্বর দিনটি তাদের স্মৃতি থেকে মুঁছে যাওয়ার কথা নয়। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে শক্তিশালী লেবাননের বিপক্ষে লড়াইটা ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচটা চলছিল সেয়ানে সেয়ানে। ৬৭ মিনিটে বাংলাদেশের বদলী গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবনের মুহূর্তের ভুলে গোল হজম করে বসে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার ভয় তখন জেঁকে বসেছে বাংলাদেশ শিবিরে।

তবে ৭২ মিনিটে যাদুকরী আবির্ভাব ঘটে শেখ মোরসালিনের। সতীর্থের কাছ থেকে ডান দিক ঘেসে পাওয়া বল নিয়ে একাই এগুতে থাকেন। ইতিউতি তাকিয়ে নিজের প্রিয় জায়গায় বল নিয়ে এসেই নেন ডানপায়ের জোড়ালো শট। হাওয়ায় ভেসে সেই বল লেবানন কিপারকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ায়। সমতাসূচক গোল করেই মোরসালিনের ভোঁ দৌঁড়। মুহূর্তে গ্যালারির ফেন্সিংয়ে উঠে আলিঙ্গন করেন সমর্থকদের। সেই গোলে মোরসালিন বনে যান দেশের ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন।

তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। এমন চোখ ধাঁধানো গোলের পর মোরসালিনের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। এক অপ্রচলিত ইনজুরি বাসা বাঁধে তার পায়ের পাতায়। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। শ্যুটিং করতে গেলেই শুরু হতো ব্যাথা। অপ্রচলিত এই ইনজুরির ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে মোরসালিনের মাঠে ফেরা। যে সময়টায় তার বিস্ফোরিত হওয়ার কথা, তাকেই কিনা মাঠ ছেড়ে ছুটতে হয়েছে চিকিৎসকের দুয়ারে দুয়ারে।

শেষ পর্যন্ত তাকে যেতে হয়েছিল ভারতের কলকাতায়। সেখানে স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বিকাশ কাপুরকে দেখান। অভিজ্ঞ চিকিৎসক বেশ কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষার পর তাকে দিয়েছেন সুসংবাদ। খুব বেশিদিন তাকে থাকতে হবে না মাঠের বাইরে। সব কিছু মেনে চললে দ্রুতই ফিরতে পারবেন মাঠে।

সুসংবাদ নিয়ে ২১ মার্চ দেশে ফিরেছেন মোরসালিন। ফিরেই অবশ্য দেখেছেন কুয়েতের মাটিতে ফিলিস্তিনের কাছে জাতীয় দলের ভরাডুবি। সেই ম্যাচ খেলতে না পারার কষ্ট তো ছিলই। আজ ঘরের মাঠে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আক্ষেপটা বেড়েছে অনেকটা।

দেশ রূপান্তরকে মোরসালিন বলেন, ‘গত নভেম্বরে এই মাঠে আমার গোলে লেবাননকে আমরা রুখে দিয়েছিলাম। সেদিন মানুষের মধ্যে যে আনন্দ দেখেছি, তা এখনও স্মৃতিতে তড়তাজা। সুস্থ থাকলে আজও  হয়তো খেলতে পারতাম দেশের হয়ে। স্বাধীনতা দিবসে নিজেদের মাটিতে খেলার অনুভূতিটা নিতে পারছি না। এটা অনেক বড় আক্ষেপ। তবে দূর থেকেই শুভ কামনা থাকবে দলের জন্য।’

এরপর ভারতের চিকিৎসক বরাত দিয়ে মোরসালিন দিলেন সুসংবাদ, ‘একটা অন্যরকম ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। শ্যুটিং করতে গেলেই পায়ে ব্যাথা অনুভব করতাম। আর ঝিঝি ধরতো। এখন ব্যথাটা একদমই নেই। ক্লাব ফিজিওর সঙ্গে রিহ্যাব শুরু করেছি। তবে এখনও শ্যুটিং শুরু করিনি। আশা করছি দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবো। ভারতের চিকিৎসকও বলেছেন ধীরে ধীরে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করতে। আগামী জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের আগে পুরোপুরি সুস্থ হওয়াই আমার লক্ষ্য।’

২৯ মার্চ থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয়পর্বের খেলা। তার যে কিংসের হয়ে শুরু থেকে খেলা হচ্ছে না, এটা নিশ্চিত হয়েছে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের কথায়, ‘ও আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আমরা কোন তাড়াহুড়ো করতে চাই না। চাই না কোন ঝুকি নিতে। ও এখন ফিজিওর সঙ্গে কাজ করছে। ধীরে ধীরে ট্রেনিং শুরু করবে। আমরা চাই একজন পুরোপুরি সুস্থ মোরসালিনকে।’

বেরসিক ইনজুরির কারণে সমর্থকদের সামনে এবার জ্বলে ওঠার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ আছে মোরসালিনের। তবে বেশিদিন মাঠের বাইরে থাকার অপেক্ষায় করতে হবে না, এটাই তার জন্য বড় স্বস্তির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত