কৃষকের কাছে সাদা সোনা হিসেবে পরিচিত রসুন। উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রতি বছর কৃষকরা রসুন আবাদ করেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষেত থেকে চুরি হচ্ছে রসুন। ফলে নিজের উৎপাদিত রসুন রক্ষার জন্য রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার গোয়ালডিহি, নলবাড়ী, হাসিমপুর ও কাচিনীয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, জমিতে পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে কৃষকরা সেখানে রাত্রিযাপন করছেন। কৃষকদের চোখে ঘুম নেই, রাত জেগে টর্চলাইটের আলোয় রসুন ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। গত ১ সপ্তাহে বেশ কয়েকজন কৃষকের ক্ষেত থেকে রসুন চুরির ঘটনায় আতঙ্কও বিরাজ করছে কৃষকদের মনে। ঈদের আগেই রসুন উঠানো ও ঘরে তোলার কাজ শেষ হবে বলে কৃষকরা জানান।
উপজেলার গোয়ালডিহি জমির শাহ পাড়ার রসুন চাষি রিশাদ শাহ জানান, ৫০ শতকের প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে বীজ, সার, সেচ, হাল ও পরিচর্যা বাবদ এই বছর খরচ হয় প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। এবার বীজের দাম বেশি হওয়ায় খরচটা বেড়ে গেছে। আর প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৫৫ থেকে ৭০ মণ। প্রতি মণের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে অন্য আবাদের চেয়ে রসুন চাষ লাভজনক।
গোয়ালডিহি গ্রামের রসুন চাষি আশরাফ আলী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে রসুন চাষে খরচ ও শ্রম বেড়েছে। গত কয়েকদিনে এই গ্রামের কয়েকজন কৃষকের ক্ষেত থেকে রসুন চুরি হয়েছে। কিন্তু এত কষ্টে আবাদ করেও চোরের চিন্তায় এখন রাত জাগতে হয়। কেননা রসুন দামি ফসল তাই পাহারা দিচ্ছি।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৬টি ইউনিয়নে রসুন চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬২০ হেক্টর। যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৫০০ হেক্টর। রসুন চাষে লাভবান হওয়ায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ এটি বৃদ্ধি হয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে ভালো ফলন ও বর্তমান বাজারে রসুনের দাম বেশি পাওয়ার মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবেন। চুরির বিষয়টি স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চুরি রোধে কৃষকরা দিনে ও রাতে পাহারা দিচ্ছেন শুনেছি।’
এ বিষয়ে খানসামা থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও রাত্রিকালে পাহারাদাররা চুরি রোধে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এদের সঙ্গে জনগণের সচেতন ভূমিকা চুরি রোধ ও অপরাধ কমাতে অনেক কার্যকর হবে।
