যুদ্ধ বন্ধে সেনা পাঠাতে পারবে নিরাপত্তা পরিষদ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:১০ এএম

জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় তার নৃশংসতার মাত্রা কমায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৭৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় চলতে থাকা যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে সরে এসেছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, হামাস অযৌক্তিক দাবি জানাচ্ছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাসের পর ইসরায়েলের ওপর কোনো কিছু মানার বাধ্যবাধকতা আছে কি না।

ইসরায়েলকে রক্ষার প্রশ্নে বারবার উদ্যোগী ভূমিকায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকবার নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একটি হিসেবে ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত সোমবার তারা ভোটদানে বিরত ছিল; সে কারণে পাস হয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব। তবে ওয়াশিংটন গৃহীত প্রস্তাবকে ‘মানা বাধ্যতামূলক নয় (নন-বাইন্ডিং)’ বলে বর্ণনা করছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড গত সোমবার বলেন, ‘মানা বাধ্যতামূলক নয়’, এমন একটি প্রস্তাবের ‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যকে’ সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। আর প্রস্তাবের সব ভাষার সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে হামাসের কৃতকর্মের সমালোচনা নেই বলেও মনে করেন ওই মার্কিন কূটনীতিক।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব কী তাহলে অর্থহীন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্ত মানা ও তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো। অনেকে সনদের ‘আর্টিকেল-২৫’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, মার্কিন অবস্থান বিধিসম্মত নয়।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফরহান হক বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া সব প্রস্তাবই আন্তর্জাতিক আইন। তাই, সেই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক আইন মানা বাধ্যতামূলক। প্রকৃতপক্ষে, বাস্তবায়নের ব্যাপারটি আন্তর্জাতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।’

জাতিসংঘে মার্কিন কূটনীতিকের মুখপাত্র ন্যাট ইভান্স গত মঙ্গলবার বলেন, ‘পাস হওয়া প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনে নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।’

জাতিসংঘের বিধান অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে তার আদেশ প্রতিপালন করাতে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। অবরোধ আরোপ করে এবং প্রয়োজনে সেনা পাঠিয়ে হলেও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে পারে নিরাপত্তা পরিষদ।

এদিকে সমঝোতার ভিত্তিতেও যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার জানান, দোহার যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে তারা সরে এসেছেন। গাজায় হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ‘রমজান মাস জুড়ে যুদ্ধকে জিইয়ে রাখতে বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে’ কূটনীতিকে অন্তর্ঘাত করছেন।

দোহা বৈঠক ব্যর্থ হওয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি হামাসের। তবে তারা জানিয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল গাজায় ৭৯ জনকে হত্যা করেছে। আবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত