ইউনেসকোর নাম ভাঙানোর অভিযোগ ইউনূসের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩২ এএম

শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউনেসকোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার পেয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ইউনূস সেন্টারের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েলি একজন ভাস্করের দেওয়া পুরস্কার ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণামূলকভাবে ইউনেসকোর পুরস্কার হিসেবে প্রচার করেছেন।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইউনেসকো কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনেসকো সদর দপ্তরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা পাঠানো হবে। ড. ইউনূস ইউনেসকোর পুরস্কারের বিষয়ে যে প্রচার চালাচ্ছে, তা অনৈতিক ও প্রতারণামূলক। এটা দেশের জন্য মানহানিকর। তিনি বলেন, ড. ইউনূস যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য দণ্ডিত হয়েছেন, সেটাও তাদের অবহিত করা হবে। একজন দণ্ডিত ব্যক্তি ইউনেসকোর নামে যে অপপ্রচার করছেন, সেটিও অবহিত করা হবে। ইউনূস সেন্টারকেও অনুরোধ, তারা যেন এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকে, তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গজনভি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ইসরায়েলের ভাস্কর হেদভাসার ড. ইউনূসকে ট্রি অব পিস নামের সম্মাননা স্মারক দিয়েছেন। ভাস্কর নিজেও নিশ্চিত করেছেন, এটি ইউনেসকোর সম্মাননা নয়। তিনি বলেছেন, গজনভি ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ড. ইউনূসকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ইউনূস সেন্টার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে এই যে পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউনেসকোর পুরস্কারের কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইটে এটি ইউনেসকোর পুরস্কার হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে; এটাকে প্রতারণামূলক কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

ইউনূস সেন্টারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা অপরাধ করে, তাদের জানানোর কিছু নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; শিগগিরই সাংবাদিকদের তা জানানো হবে।

এদিকে ইউনেসকোর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ও মিথ্যাচার করায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ইউনূস সেন্টারের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাইবে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের এমন অবস্থানের কথা জানানো হয়। ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ট্রি অব পিস প্রদান : বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের বক্তব্য’ শীর্ষক এ বিবৃতিতে সই করেছেন কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জুবাইদা মান্নান। ওই কমিশনের চেয়ারপারসন হলেন মহিবুল হাসান চৌধুরী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এবং ইউনূস সেন্টারের অফিশিয়াল ওয়েবপেজে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেসকো কর্র্তৃক ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার প্রদানের সংবাদটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের (বিএনসিইউ) দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

ইউনূস সেন্টার প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে পত্রিকায় যে সংবাদ ছাপা হয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ মার্চ আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ১১তম গ্লোবাল বাকু ফোরামে ড. ইউনূসকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। কিন্তু ইউনেসকো ঢাকা অফিস জানিয়েছে, প্যারিসের ইউনেসকো সদর দপ্তর এ বিষয়ে একেবারেই অবহিত নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইউনেসকোর অন্যতম সক্রিয় সদস্যরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে ইউনেসকোর মতো জাতিসংঘের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং সুখ্যাতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম অপব্যবহারের বিষয়ে ড. ইউনূস এবং ইউনূস সেন্টারকে সতর্ক করা হলো। একই সঙ্গে বিষয়টি যেহেতু প্রতারণামূলক এবং পরিকল্পিত মিথ্যাচার, সেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখা চাওয়া হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে ইউনেসকোর সঙ্গে কার্যক্রমের জন্য সরকারের ফোকাল পয়েন্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে, কেউ যেন ইউনেসকোর নামের অপব্যবহার বা অপপ্রয়োগ না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা। সে হিসেবে ইউনেসকোর নাম অপব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনেসকো ঢাকা অফিস এবং ইউনেসকোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে পরামর্শ করে ইউনেসকো সদর দপ্তরকে অবহিত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত