আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রীতি ম্যাচের গুরুত্ব খুব একটা থাকে না। তবে এবারের ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। আর এই দুই প্রীতি ম্যাচে উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ছন্দে ফিরে আসার গল্পই লিখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দিয়েছে সামনে আরও ভালো কিছুর বার্তা।
কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিল বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কাতার বিশ্বকাপের পরও চেনা ছন্দে ছিল না সেলেসাওরা। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৬টি খেলে হেরেছে তিন ম্যাচ। জাতীয় দলের কোচ নিয়ে সংকটে পরেছিল দেশটি।
ফার্নান্দো দিনিজ নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারছিলেন না। কার্লো আনচেলত্তিও শেষ পর্যন্ত এলেন না। ২০২৩ সালে আফ্রিকার দুই দেশের (মরক্কো ও সেনেগাল) সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে হারে ব্রাজিল। তবে ২০২৪ এ এসে সেসব এখন অতীত।
এবারের ফিফা উইন্ডোর আগে শেষ তিন ম্যাচে হেরেছিল ব্রাজিল। ইংল্যান্ড ও স্পেনের বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচ শেষে যে বিষয়গুলো আলাদা করে বলা যায় -
দরিভালের দারুণ শুরু
এই ফিফা উইন্ডো দিয়েই কোচ হিসেবে ব্রাজিলের ডাগআউটে উপস্থিত হন দরিভাল জুনিয়র। নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই পাশ তিনি।
উজ্জীবিত পারফরম্যান্স
ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়। এরপর স্পেনের সঙ্গে পিছিয়ে পরেও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্র। ইউরোপ থেকে অপরাজিত থেকে ফিরল দরিভালের দল।
বিশ্ব দেখল এনদ্রিক ঝলক
১৭ বছর বয়সী এনদ্রিক বর্তমানে খেলেন ব্রজিলের ক্লাব পাইলমেইরাসে। বিশ্বের বেশিরভাগ ফুটবল প্রেমীরা সারা বছর সাধারণত ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের খেলা দেখার ঝোকটা ইউরোপ, এশিয়ায় নেই বললেই চলে।
এনদ্রিককে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের করে রেখেছে। তবে ১৮ বছর হওয়ার আগে রিয়ালে যোগ দেবেন না তিনি। যেহেতু রিয়াল দলে টেনে রেখেছে এনদ্রিকের প্রতিভা আছে এটুকু অনেকেই আচ করতে পেরেছিলেন। এবারের দুই প্রীতি ম্যাচে ওয়েম্বলি ও বার্নাব্যুতে সেই ঝলকও দেখলেন ফুটবল প্রেমীরা। ইংল্যান্ড ও স্পেন দুই দলের বিপক্ষেই করেছেন গোল।
পাকেতার ফেরা
জুয়ার দায়ে অভিযুক্ত হন ওয়েস্টহ্যাম মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। তাই দিনিজ তাকে দলে রাখতেন না। গেল সেপ্টেম্বরের পর আবার জাতীয় দলে ডাক পান পাকেতা। এবার দলে ফিরেই মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। এই ম্যাচে ছিলেন দলের অধিনায়কও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পরার মতো।
নতুনদের সাফল্য
কাসেমিরো, মার্কিনহোস, এডেরসন, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস চোটের কারণে ছিটকে যান। তবে স্কোয়াডে থাকা বাকিদের নিয়ে দরিভালের ব্রাজিল পেয়েছে সাফল্য। এই দুই ম্যাচে ব্রাজিল দলে অভিষেক হয়েছে বেশি কিছু খেলোয়াড়ের।
গোলপোস্টে অভিষিক্ত বেন্তো ভালোই সামলেছেন দায়িত্ব। স্পেনের বিপক্ষে ৩ গোল হজম করলেও দারুণ কিছু সেভও করেছেন। সেন্টার ব্যাক ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো কোপা আমেরিকার দলে থাকার মতো পারফরম্যান্স করেছেন। এছাড়া ডিফেন্সে নতুন লাইনআপে ওয়েন্ডেল, লুকাস বেরালদোরাও নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। নিয়মিত ইউরোপের লিগে খেলা ফুটবলারদের সঙ্গে লড়েছেন পাল্লা দিয়ে।
