কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য বরাদ্দ ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’র জায়গা পরিদর্শন করেছেন দেশটির রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। কুড়িগ্রাম ধরলা সেতুর পূর্বপাশে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৪ সদস্যের সফরসঙ্গী নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় তিনি সড়কপথে জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে ভুটানের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন ওয়াংচুক।
গতকাল ভুটানের রাজার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হামিদুল হক খন্দকার, সংসদ সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ ও পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ভুটানের রাজা ১৪ সদস্যের সফরসঙ্গী নিয়ে সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুর পৌনে ১২টায় পৌঁছান কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউজে। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বেলা দেড়টায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় রাস্তার দুপাশে শত শত মানুষ রাজাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, রাজা কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে ছিলেন। তবে তিনি গাড়িতে বসেই হাত নেড়ে উষ্ণ শুভেচ্ছার জবাব দেন। এতেই খুশি সাধারণ মানুষ। তারা স্বপ্ন দেখছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এ জনপদের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালে লন্ডনে এক দ্বিপক্ষীয় সভায় রানীর উপস্থিতিতে কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ভুটানের রাজাকে প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে তারা সম্মতি জানালে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কে ধরলা ব্রিজের পূর্বপ্রান্ত মাধবরাম মৌজায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসন ১৩৩ দশমিক ৯২ একর খাসজমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে। এক বছরের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থানটি পরিদর্শন করলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত সোমবার ঢাকা পৌঁছান ভুটানের রাজা। সোমবার বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের উপস্থিতিতে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি চুক্তি নবায়ন হয়।
