শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমতে পারে ২ থেকে ৩ টাকা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৩:২২ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্বিতীয় দফা জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২ থেকে আড়াই টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পেট্রল ও অকটেনের দাম না-ও কমতে পারে এ দফায়।

আজ রবিবার এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন।

এর আগে, গত গত ৭ মার্চ  ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৭৫ পয়সা, অকটেনে ৪ টাকা এবং পেট্রলে ৩ টাকা দাম কমানো হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত হিসেবে সরকার গত ২৯ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশে কমবে আবার বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়বে। তবে ডিজেলের দাম কমলে বা বাড়লে পরিবহন ভাড়া কী হবে তা নিয়ে এখনো সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৭৫ শতাংশই ডিজেল। এটি সাধারণত কৃষি সেচে, জেনারেটর এবং পরিবহনে ব্যবহার করা হয়। ফলে দাম কমার প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে খুব বেশি পড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং পরিবহন ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রথম দফায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব বাজারের দাম এবং নানা দিক বিবেচনা করে ৭৫ পয়সা কমানো হয়। এবার আরও ২ থেকে আড়াই টাকার মতো কমতে পারে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।

বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২৬ টাকা ও পেট্রলের দাম ১২২ টাকা।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় বর্তমানে ডিজেল লিটারপ্রতি ১৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা (১ রুপি=১.৪৪ টাকা) এবং পেট্রোল ১৫২ টাকা ৬৮ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে যথাক্রমে প্রায় ২৪ টাকা ৫৭ পয়সা ও ২৭ টাকা ৬৮ পয়সা বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, সরকার নামমাত্র দাম কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান তেলের যা দাম সে অনুসারে দাম আরও কমা উচিত ছিল। কী পদ্ধতিতে হিসাব করেছে তা স্পষ্ট নয়। বিপিসির আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম কমেছে কিন্তু পরিবহন ভাড়া না কমলে এর সুফল তো জনগণ পাবে না।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দাম কমানোর লাভ মূলত পাবে ধনী ব্যক্তিরা। ডিজেলের সামান্য দাম কমায় পরিবহন ভাড়া কমবে না, মূলত পরিবহন ব্যবসায়ীরা লাভ করবে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিমাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। অনেকটা এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তেলের দামও নির্ধারণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত