বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২১ বছরের সাধনায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মেডিকেল কলেজের নকশা করলেন মিঠু

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৪ পিএম

দীর্ঘ ২১ বছরের সাধনায় স্থাপত্য শিল্পে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন বগুড়ার স্থাপত্য শিল্পী এবিএম মনেয়ারুল হাসান মিঠু। যার আয়তন সোয়া ৪ লাখ বর্গফুটেরও বেশি। মিঠুর তৈরি করা এই নকশা স্থাপত্য শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদী তিনি। নকশার বাস্তব রুপ দিলে ফুটে উঠবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখচ্ছবি।

তবে এই নকশার গল্পটা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে, যখন বগুড়ায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় মিঠু বগুড়া ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সেই সফরে বগুড়ায় ছাত্রলীগের একটি সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের উদ্যেশ্যে বলেছিলেন, তোমাদের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে নতুন নতুন কিছু দিতে হবে। তার সেই কথাকে কাজে লাগাতে মিঠুর দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর সাধনা। এই নকশায় মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় সহ নানা বৃহদাকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।

ইতোমধ্যেই নকশাটির একটি থ্রি-ডি তৈরি করেছেন মিঠু। সেখানে ৫তলা বিশিষ্ট একটি স্থাপত্যকে বিভিন্ন দিক দিয়ে ফুটে তুলেছেন। ভবনটি আকাশ থেকে দেখতে অবিকল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ হবে। স্থাপত্যবিদ মিঠু পুরো গবেষণা শেষ করে যখন নিজের প্রতি দৃঢ় আস্থা দেখতে পেরেছেন তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে উপস্থাপন করেন। রবিবার বগুড়া শহরের ম্যাক্স মোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান তিনি।

এ সময় এবিএম মনোয়ারুল হাসান মিঠু তার গবেষণাটি নিয়ে বলেন, হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই প্রয়াস। পৃথিবীর কোথাও মানুষের প্রতিকৃতি দিয়ে নির্মিত কোনো স্থাপনা নেই। তাই, মানুষের প্রতিকৃতি দিয়ে প্রস্তুতকৃত এটিই হবে পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্থাপনা। এই স্থাপনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বজুড়ে মানুষ দেখবে একজন মহান নেতার অনন্য প্রতিকৃতি। 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এই মডেলটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর নামে যেকোনো বৃহৎ বা ছোট স্থাপনা এই স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা সম্ভব। 
মিঠুর নকশা এবং থ্রিডি অনুযায়ী ভবনটি বাস্তবায়নে জায়গা প্রয়োজন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৫ বর্গফুট। জমির প্রয়োজন ৯.৮৮১ একর। মূল অবকাঠামোটি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪১৫.২৩ বর্গফুট। ৫ তলা বিশিষ্ট এই অবকাঠামোটি নির্মাণে জমির আনুমানিক মূল্যসহ ব্যয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন প্রায় ৩ বছর। এই মডেল স্থাপনাটি নির্মাণে যে দক্ষ প্রতিষ্ঠান ও লোকবল প্রয়োজন হবে, তা আমাদের দেশেই রয়েছে।

স্থপত্যটির ভাবনা নিয়ে মিঠু বলেন, ১৯৯৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বগুড়া এসেছিলেন। সেই সফরে বগুড়ায় ছাত্রলীগের একটি সভায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের উদ্যেশ্যে বলেছিলেন, তোমাদের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে নতুন নতুন কিছু দিতে হবে। তার সেই কথাকে কাজে লাগাতে আমি এই গবেষণায় মনোযোগ দেই। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর সাধণা করার পর আমি সফলতার মুখ দেখি।

তবে পূর্ণ সফলতা কখনি আসবে যখন আমি আমার এই নকশার বাস্তবায়ন দেখতে পাবো। আমি আশাকরি আমার এই কাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবেন। 

এ.বি.এম. মনোয়ারুল হাসান মিঠুর বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার মৃত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাসেতের পুত্র। তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন ১৯৯৮ সালে। এরপর আর্কিটেক বিষয়ের উপর ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন বেসরকারি কনস্ট্রকশন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। গবেষণাটি চূড়ান্ত রুপ দিতে গিয়ে তিনি সব ধরণের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। মিঠু ছাত্র জীবনের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত