মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় শিক্ষকের নিয়োগ আটকে দিল ঢাবি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনিস্টিটিউটে (আইবিএ) প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে যাওয়া সাজু সাহা নামের এক শিক্ষকের নিয়োগ আটকে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নিয়োগ বোর্ড ওই শিক্ষককে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করলেও আইবিএ’র সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম বোর্ড অব গভরন্যান্সের সভায় নিয়োগটি অনুমোদন পায়নি। যৌন হয়রানির অভিযোগ থাকায় নিয়োগ চূড়ান্ত না করে তা পুনরায় রিভিউয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সাজু সাহা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনিস্টিটিউটে (আইবিএ) প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। 

জানা গেছে, জাবির সাবেক এক ছাত্রী গত ২৩ মার্চ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাজু সাহার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন । একইসঙ্গে মেইলের মাধ্যমে বিভাগের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক সাজু সাহা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনিস্টিটিউটে প্রভাষক পদে আবেদন করেন জাবির শিক্ষক সাজু সাহা। তিনিসহ চারজনকে সুপারিশ করে ইনিস্টিউটের নিয়োগ বোর্ড। এর পরেই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগটি সামনে আসে। অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) নজরে আসলে বোর্ড অব গভরন্যান্সে আটকে যায়। যার ফলে সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে না তুলে পুনরায় রিভিউ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারের কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিয়োগ বোর্ড যখন সাজু সাহাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই সময় শিক্ষার্থীর এ অভিযোগ আসেনি। পরে অভিযোগটি আসায় বোর্ড অব গভরন্যান্স অনুমোদন না দিয়ে রিভিউ এর জন্য পাঠান। এরপর আবার এটি বোর্ড অব গভরন্যান্সে যাবে। আমরা বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা করব।

ছাত্রীর অভিযোগ :

অধ্যাপক সাজু সাহা কাউন্সেলিং করানোর নামে তাকে নিপীড়ন করেছেন উল্লেখ করে সাবেক ওই ছাত্রী বলেন, ‘তিনি আমার গায়ে হাত দিয়েছেন। আমাকে তার সঙ্গে হুক-আপ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। উনার প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য রেস্টুরেন্টে আমার পা পর্যন্ত ধরতে চেয়েছেন। এ সবের ট্রমায় আমি এক সেমিস্টার ক্লাসেও নিয়মিত হতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এসব আমি এতোদিন উপস্থাপন করার সাহস পাইনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইরুজ অবন্তিকার ঘটনার পর আমি এগুলো সামনে আনার সাহস পাই।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘এ সাজু সাহা ভয়ে আছেন আমার অভিযোগের ব্যাপারে। কারণ, তিনি তো জানেন, তিনি আমার সঙ্গে এসব করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও উনি নিশ্চিত একই কাজ করবে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। ওনার বিচার নিশ্চিত করেই ছাড়বো আমি, শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টা আমরা জেনেছি। এটা নিয়ে আমরা সভাও করেছি। সেই শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

অধ্যাপক সাজু সম্পর্কে যা জানা গেল :

সহকারী অধ্যাপক সাজু সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন সাজু সাহা। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। প্রভাষক থাকা অবস্থায় একবার (২০১৯) আর সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর আরও দুইবার (২০২১ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জুলাই) তিনি ঢাকা মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক পদে আবেদন করেছিলেন। প্রতিবার তিনি তার রেজাল্টের কারণে বাদ পড়েছেন। আর এবার তিনি এই রেজাল্ট দিয়েই নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন ঢাবির আইবিএতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ গুরুতর বিষয়। যে অভিযোগ উঠেছে সেটি আগে তদন্ত করে তারপর সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো হবে। অন্যথায় একটা খারাপ মেসেজ যাবে। যৌন হয়রানির বিষয়টি বেশ আলোচিত।

এই বিষয়ে জানতে বোর্ড অব গভরন্যান্সের সদস্য সচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ এ. মোমেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সাজু সাহা বলেন, আমি অভিযোগের বিষয়ে মামলা করেছি। বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না। আপনি আমার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর ঢালি বলেন, 'মুখ্য মহানগর হাকিম, আদালত নম্বর ২৪ এ মামলা করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মামলা গ্রহণ করে তদন্তের জন্য বলেছে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত