শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিয়োগ দুর্নীতি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই মামলা করেছে দুদক
  • অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদকের
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৭ এএম

সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের উপপরিচালক জাবেদ হাবীবের কাছে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসাইন ইমন। মঙ্গলবার রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক জাবেদ হাবীব।

মামলায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক (পরিবহন ও উন্নয়ন) ফাহিমা খানম চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার অঞ্জন দেবনাথ, সহকারী কলেজ পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (পরিবহন ও উন্নয়ন) গোলাম সরোয়ার, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলাল আহমদ চৌধরী, সহকারী পরিচালক (বাজেট) শমসের রাসেল, জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী ফারাজসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যদের লাভবান করার উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যমান বিধিবিধান ও আইনকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ টাকা আত্মসাত করে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, সাবেক উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরী ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া কোনও ধরনের নিয়োগবিধি না মেনে প্রার্থীদের যথাযথ বয়স ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রদান করেন।

২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২২০ জনকে ছয় মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে মেয়াদ আরও ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার পর চাকরি নিয়মিত না করে আবার অ্যাডহকে দুই থেকে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৮-এর ১২-এর ১০ উপধারা অনুযায়ী উপাচার্য শূন্য পদে অ্যাডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে অনধিক ৬ মাসের জন্য নিয়োগ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে মেয়াদ অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে হয় চাকরি নিয়মিত করতে হবে অথবা অব্যাহতি দিতে হবে। কোনোভাবেই আবার অ্যাডহকে নিয়োগ বা মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। তবে তৎকালীন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগতভাবে ও অন্যদের লাভবান করার অসৎ উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যাডহকে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তাকে ওই কাজে সহযোগিতা করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২৩৯ জন। কিন্তু ইউজিসি অনুমোদিত পদ আছে ১১২টি। অনুমোদিত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৯৮ জনকে এবং ইউজিসি থেকে তাদের বেতন–ভাতা জনতা ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ১৪১ জনের নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি থেকে কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমোদন নেয়নি। অনুসন্ধানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫৮ জনের অপরাধ সংশ্লিষ্ট পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক।

উল্লেখ্য সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি পরবর্তীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত