রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ক্যাশব্যাক, কুপনে বিকাশ পেমেন্টে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা

দেশজুড়ে প্রায় ৬০০,০০০ বিকাশ মার্চেন্টে নিরবচ্ছিন্ন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন গ্রাহকরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৫ এএম

কয়েক বছরের মতো এবারও ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট কুপন, ছাড়ে সারা দেশের মানুষের ঈদের কেনাকাটা আনন্দময় হয়ে উঠেছে বিকাশ পেমেন্টে। অনলাইনে হোক বা শপিং মলে গিয়ে, ঈদ কেন্দ্র করে অধিকাংশ মানুষই নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে উৎসবের পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকস কেনাকাটা; ভ্রমণ, রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করছেন বিকাশ পেমেন্ট। আর এ পেমেন্টের একটা বড় অংশই হচ্ছে ক্যাশলেস পদ্ধতিতে। কয়েক বছর আগেও ক্রেতারা শপিং মলে কেনাকাটার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ক্যাশ টাকা বহন করলেও এখন পকেটে বা ব্যাগে টাকা নিয়ে ঘোরার দিন ফুরিয়েছে, কেননা হাতে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গ্রাহকরা দ্রুত, সহজে এবং নিরাপদে প্রায় সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট করছেন বিকাশের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

নামকরা ব্র্যান্ডশপ, পাড়ার মুদিদোকান, ফার্মেসি থেকে শুরু করে ঘরে বসে ফেসবুক পেজ বা অনলাইন শপ থেকে কেনাকাটা বা রেস্টুরেন্ট খাবার অর্ডার, বাস-ট্রেন-প্লেনের টিকিট কাটা সবই সহজ বিকাশ পেমেন্টে। আর বিভিন্ন রকম ডিসকাউন্ট এবং ক্যাশব্যাক অফারের কারণে গ্রাহকের কাছে উৎসবের কেনাকাটা মানেই এখন বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা। আবার সাধারণ পেমেন্টের পাশাপাশি ভিসা কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে সরাসরি বিকাশ পেমেন্টের সুবিধা এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ‘পে-লেটার’ সার্ভিস গ্রাহকদের ক্যাশলেস লেনদেনের অভিজ্ঞতাকে করে তুলেছে আরও বৈচিত্র্যময়।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার একটি শপিং মলে কেনাকাটা করতে এসেছেন পান্থপথ নিবাসী ব্যবসায়ী মাকসুদুল করিম। কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনকার দরকারি পণ্য কেনা থেকে শুরু করে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল দেওয়া সবই চেষ্টা করছি ডিজিটালি করার। এ ক্ষেত্রে বিকাশই সবচেয়ে সুবিধাজনক অপশন, কেননা মোটামুটি সব দোকানেই বিকাশ পেমেন্টের সুযোগ আছে। আর ঈদের কেনাকাটায় বেশি ক্যাশ নিয়ে ঘোরার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না বিকাশের মতো সেবার কারণে। পাশাপাশি কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক অফারগুলোও বেশ কাজে লাগছে।’

মাকসুদুলের মতো এমন লাখো গ্রাহক এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন ডিজিটাল পেমেন্টে। অনলাইন কিংবা অফলাইন সব ধরনের কেনাকাটাতেই ডিজিটাল পেমেন্টে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন অসংখ্য ক্রেতা। আবার ডিজিটাল পেমেন্টে কেনাকাটায় শুধু যে গ্রাহকই স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছেন তা নয়, সহজে দৈনন্দিন বেচা-বিক্রির হিসাব রাখতে পারায় স্বস্তি মিলছে বিক্রেতাদেরও।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোলাম মাহমুদ। নিজের মুদিদোকানে মাস ছয়েক আগে বিকাশের পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই দোকানে কেনাকাটা করে কার্ডে বা বিকাশে বিল দিতে চায়। পরে কাস্টমারের কথা বিবেচনা করে বিকাশের অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) নিই। এরকম অ্যাকাউন্টের কারণে ব্যবসায়িক লেনদেন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। ভাঙতির সমস্যায় পড়তে হয় না, নকল বা ছেঁড়া টাকার ঝামেলাও নেই। আবার যারা কার্ডে পেমেন্ট দিতে চায়, তারা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমেই কার্ড (ভিসা কার্ড) থেকে পেমেন্ট দিতে পারে।’

বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে নিয়ে আমরা ক্যাশবিহীন লেনদেনের ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করতে এবং বিভিন্ন উৎসব-বিশেষ করে ঈদের কেনাকাটা আরও সহজ, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আনন্দময় করতেই ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্টসহ নানা অফার নিয়ে আসে বিকাশ। সুপারস্টোর বা ব্র্যান্ডশপের মতো বড় মার্চেন্ট তো আছেই, পাশাপাশি এখন একদম প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) দিয়ে বিকাশ পেমেন্ট নিতে পারছেন।’

বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ বিকাশ মার্চেন্টে কিউআর কোড স্ক্যান করে বা *২৪৭# ডায়াল করে সহজ ও নিরাপদ পেমেন্ট সার্ভিস নিতে পারছেন ৭ কোটি ৫০ লাখ বিকাশ গ্রাহক। তাছাড়া সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ৩ লাখ ৩০ হাজার এজেন্ট পয়েন্টে ক্যাশইন সুবিধা নিতে পারছেন গ্রাহকরা। বিকাশের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর লেনদেনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের জন্য এ ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলেছে। বর্তমানে দেশের ৪৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা ও মাস্টারকার্ড থেকে গ্রাহক অ্যাডমানি সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারছেন। পাশাপাশি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সুবিধাও আছে। এ ছাড়া সম্প্রতি বিকাশ অ্যাপ থেকে সরাসরি ভিসা কার্ড দিয়ে বিকাশ পেমেন্ট করার সেবা চালু হয়েছে, যা গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট সক্ষমতা কয়েক গুণে বৃদ্ধি করেছে।

পুরো রমজান মাসে অনলাইন শপ, ফেসবুক পেজ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডশপ, ফ্যাশন হাউজ, জুতার দোকান, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর মিলছে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার। এ ছাড়া অনলাইন গ্রোসারি ও সুপারস্টোরেও রমজানের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে মিলছে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক। পবিত্র রমজান মাস জুড়ে এবং ঈদ সামনে রেখে বিকাশ পেমেন্টে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফারগুলো দেখে নেওয়া যাবে বিকাশের ওয়েবসাইট ও অফিশিয়াল ফেসফুক পেজে অথবা এই লিংকে https://www.bkash.com/campaign/search?category=grocery-shopping%2Cramadan-offer%2Coffline-payment

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত