সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমার অভিনয়ে আসাটা ছিল অ্যাকসিডেন্টাল

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৫ এএম

সোহেল মণ্ডল দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন তাকদীর ওয়েব সিরিজ দিয়ে। অবশ্য এর আগেও ভালো কাজ ছিল। অভিনয় করেছিলেন মায়ার জঞ্জালে চলচ্চিত্রে। গত বছর মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র তাকে এনে দেয় ফিল্মফয়ার। সোহেলের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

স্বীকৃতি ফিল্মফেয়ার

প্রতিক্রিয়াটা আসলে প্রতিক্রিয়াহীন। এটা আমার কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি ভালো কাজ করার জন্য, পুরস্কারের চিন্তা করিনি। একটা কাজ করার পরে যদি কোনো ধরনের স্বীকৃতি আসে, তাহলে সেটা ভীষণ অনুপ্রেরণার মতো বিষয় তৈরি করে। ফিল্মফেয়ার পেয়ে তেমনটাই ঘটল। আমি জাঁদরেল অভিনেতাদের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছিলাম, এটা সত্যিই আমার কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন কাজ, নতুন উদ্যম, প্যাশনেট নিয়ে করা, সেটা বাড়িয়ে দিল আর কি।

বন্ধু যখন ঋত্বিক চক্রবর্তী

যদিও ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে তিনটা দৃশ্যে আমার অভিনয় ছিল। আমার ও ঋত্বিকদার গল্পটা দুটো আলাদা; মানে সিনেমায় সমান্তরাল দুই গল্প এগিয়ে চলে। সেই গল্পটার ইন্টারকানেকশনে দুই-তিনবার আমাদের দেখা হতো। ওই কাজটুকু করতে তার সঙ্গে যতটুকু দেখা, কথা, ওঠাবসা এটাই। পরে তার সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। অনস্ক্রিন কাজ করার বাইরে আমরা প্রচুর অফ স্ক্রিন আড্ডাবাজি করেছি, কাজ নিয়ে কথা বলেছি। তার কাজের যে ধরন, সেটার সঙ্গে ভালো একটা যোগাযোগ হয়েছিল। স্টিল আমরা খুবই ভালো বন্ধু। দেখা হলেই এখনো আমরা প্রচুর কালেকটিভ আড্ডাবাজি করি। আসলে সংস্কৃতির তো দেশকাল, সীমান্ত থাকে না। আর বাংলাদেশ বা বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে কাজ করা তো ইনস্পিরিশনাল। তিনি তো কাজ করতেই চান। এখন ব্যাটে-বলে মেলে না হয়তো। মিললেই হয়তো কাজ করবেন।

সীমান্ত পেরিয়ে

শুধু কলকাতা নয়, বলিউডেও কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। গত বছরের শেষভাগে বলিউডের একটা কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। এটা বড় একটি প্রোজেক্ট ছিল। চুক্তি স্বাক্ষরও হয়েছিল। নামটা এখন প্রকাশ করা ঠিক হবে না, যেহেতু কাজটা আর হচ্ছে না। এটা সনি এন্টারটেইনমেন্টের কাজ ছিল। সেটা স্থগিত হয়ে গেছে। তাকদীর ও মায়ার জঞ্জাল মুক্তির পর; যেহেতু কলকাতা, শিলিগুড়ি, কুচবিহার এসব জায়গায় আমার বেশ ভক্ত রয়েছে, স্বাভাবিকভাবে কলকাতা থেকে বেশ কিছু কাজের প্রস্তাব ও আলাপ  হয়, হচ্ছে। দুটো কাজের আলাপ চলছে, নেক্সট ইয়ারের জন্য।

অভিনয়ে আসার গল্প

অভিনয়ে আসার বিষয়টি খুবই অ্যাকসিডেন্টাল। যেহেতু আমি বই পড়তে পছন্দ করি, সিনেমা দেখতে পছন্দ করি, সেহেতু হয়তো মনে কোনো সুপ্ত ইচ্ছা থাকলেও থাকতে পারে বা ছিল; তবে বাস্তবিক জায়গা থেকে তেমন কোনো চিন্তা ছিল না। আমি বাংলা কলেজে পড়তাম, সেখান থেকে অ্যাকসিডেন্টালভাবে থিয়েটারে যুক্ত হওয়া। অবসর সময়ে অনেকে খেলাধুলা করে, আমি থিয়েটার বেছে নিয়েছিলাম। থিয়েটার করতে গিয়ে, সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়েই ভালোবাসা তৈরি হলো। পারফর্ম করতে করতে যখন আত্মবিশ্বাস তৈরি হলো, তখন মনে হলো অভিনয়টাকে এবার পেশাদারির সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে।

শহীদুল জহির

অবসরে আমি বই পড়ি। এখন একটি ইতিহাস, প্রবন্ধ পড়ছি। একটা সময় সমরেশ, শীর্ষেন্দু, সুনীল, হুমায়ূন আহমেদ প্রচুর পড়তাম। সুনীলের প্রতি তো আমি দারুণভাবে ফ্যাসিনেটেড ছিলাম। শুরুটা হয়েছিল সেবা প্রকাশনীর বই দিয়ে। মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, ওয়েস্টার্নসহ পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ। এরপর আমি ভীষণভাবে পড়া শুরু করি, শহীদুল জহির, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক, কায়েস আহমেদ, শওকত আলী, জহির রায়হান। একটা সময় গিয়ে আসলে আমি শহীদুল জহির দ্বারা ভীষণভাবে মোটিভেটেড হই, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসেরও পড়ে।

অভিনয়শিল্পীদের পড়াশোনা

অভিনয়শিল্পীদের পড়াশোনাটা খুবই জরুরি, যদিও বাধ্যতামূলক আমি বলছি না। ইতিহাসভিত্তিক হোক বা সাধারণ হোক চরিত্রের প্রয়োজনেই আসলে পড়াশোনাটা দরকার হয়, কোনো একটি চরিত্রকে নিয়ে গবেষণা করতে গেলেও মুভি দেখার পাশাপাশি পড়াশোনাটা দরকার। পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাশক্তি এসব পড়াশোনার মাধ্যমেই বের হয়ে আসে। এটা ভালো হয় যদি সে তার ক্রাফটটার সঙ্গে পড়াশোনাটা করে। এটা প্রতিটি সৃজনশীল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত