রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জামিন পেলেন ট্রান্সকমের শীর্ষ তিন কর্তা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১৫ এএম

হত্যাসহ পৃথক চার মামলায় জামিন পেলেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও হেড অব ট্রান্সফরমেশন যারেফ আয়াত হোসেন। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহবুব আহমেদের এজলাসে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের এ আদেশ দেন। ট্রান্সকমের শেয়ার ও অর্থ সম্পদ নিয়ে এ তিনজনসহ আটজনের বিরুদ্ধে গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে তিনটি মামলা করেন সিমিন রহমানের ছোট বোন শাযরেহ হক। ২৪ মার্চ ১০ মাস আগে বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে হত্যার অভিযোগে সিমিন রহমান ও যারেফ আয়াত হোসেনসহ ১১ জনকে আসামি করে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন শাযরেহ হক।

চারটি মামলার সময় ট্রান্সকমের এ তিনজন বিদেশে ছিলেন। সম্প্রতি তারা যাতে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন সে বিষয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন হয়। প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মার্চ হাইকোর্টের বেঞ্চ তিনজনের দেশে ফেরার সুযোগসহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এরপর হত্যা মামলার পর ৩১ মার্চ হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ এ তিনজন যাতে কোনো বাধা ছাড়া দেশে ফিরতে পারেন সে নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনজন গতকাল বিদেশ থেকে ফিরে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদার, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মামুন ও অ্যাডভোকেট শাহিনুর রহমান। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিদের মধ্যে সিমিন রহমান চার মামলারই আসামি। যারেফ আয়াত হত্যাসহ দুই মামলার এবং শাহনাজ রহমানও দুই মামলার আসামি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আজ (গতকাল) আদালতে দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো, হত্যা মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও সিএমএম কোর্ট আসামিদের জামিন দিয়ে দিলেন। আগামী দিনে অনেকেই হত্যা করে সিএমএম কোর্টে আসবেন এবং জামিন পেয়ে যাবেন।’ তিনি বলেন, ‘ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের ছেলেকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে এবং ডিড অব সেটেলমেন্ট কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে পেপারস তৈরি করা হয়েছিল এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে। জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’

অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘আদালত আমাদের যুক্তি শুনে জামিন দিয়েছেন। কাগজের মধ্যে ৩০২ ধারা থাকলেই হত্যা মামলা হয় না। এ ধরনের হত্যা মামলা বাংলাদেশে হয়নি। ৩০২ ধারা থাকলেই হত্যা মামলা হবে না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত