সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব জাতিসংঘে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩২ এএম

ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় গাজায় সাতজন ত্রাণকর্মী নিহতের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি) একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। আগামীকাল শুক্রবার এটি উত্থাপন করা হবে। এদিকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদের জন্য ফিলিস্তিন আবারও তৎপরতা শুরু করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন ইউএনএইচআরসির অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মতো প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তা হবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ এর আগে দেশটির ওপর এই ধরনের অবরোধ আরোপ করা হয়নি। গাজায় যখন প্রাণহানি ৩৩ হাজার ছুঁইছুঁই, তখন এই ধরনের একটি উদ্যোগ সামনে এলো।

ইউএনএইচআরসির খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠন বিস্তৃত এলাকায় ইসরায়েলের বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের নিন্দা জানায় এবং গণহত্যা প্রতিরোধে ইসরায়েলের আইনি দায় বিবেচনার দাবি জানানো হয়। ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করারও নিন্দা জানানো হয়। ইসরায়েলকে জাতিগত নিধনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

আট পাতার খসড়া প্রস্তাবে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের ওপর থেকে তাদের দখলদারি তুলে নেয় এবং অবিলম্বে গাজা থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করে। ইউএনএইচআরসি চায়, দেশগুলো ইসরায়েলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা বন্ধ করুক।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৬টি দেশের মধ্যে ৫৫টি দেশের (আলবেনিয়া ছাড়া) পক্ষ থেকে জাতিসংঘে প্রস্তাবটি আনে পাকিস্তান।

এদিকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদে ফিলিস্তিনকে বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। ২০১১ সালে ফিলিস্তিন আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের জন্য আবেদন জানায়। গতকাল জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের সমর্থকরা নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানায়, পরিষদ যেন ২০১১ সালের আবেদন পুনরুজ্জীবিত করে।

অবশ্য ফিলিস্তিনের এই উদ্যোগ যে ব্যর্থ হতে পারে, সেই অনুমান করা যায়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সদস্যপদ প্রাপ্তির পথ আটকে দিতে পারে।

জাতিসংঘভুক্ত ১৪০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট বরাবর চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছে। এতে আরব লিগের ২২ দেশ এবং ওআইসির সদস্যরা রয়েছে। সেইসঙ্গে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্যরাও এতে সমর্থন দিয়েছে।

২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেন। তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুনের সময় তিনি ১৯৪তম সদস্য হতে আবেদন জমা দেন। ওই সময় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্যের সমর্থনলাভে ব্যর্থ হয় ফিলিস্তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত