মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ খরা, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা

  • বৃষ্টিপাত কম হওয়ার ফলে প্রায় অর্ধেক ভুট্টা ধ্বংস হয়ে গেছে জিম্বাবুয়েতে
  • শস্যের ঘাটতির কারণেই দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২১ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ খরায় ভুগছে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ জিম্বাবুয়ে। আর এরই জেরে এবার খরা মোকাবিলায় ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

বুধবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

জিম্বাবুয়েতে কম বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট খরা ও ক্ষুধা মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া। দীর্ঘস্থায়ী খরা মোকাবিলায় দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন তিনি।

বিবিসি জানায়, মূলত বৃষ্টিপাত অনেক কম হওয়ার ফলে প্রায় অর্ধেক ভুট্টা ধ্বংস হয়ে গেছে জিম্বাবুয়েতে। আর শস্যের ঘাটতির কারণেই দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। যার ফলে আনুমানিক ২৭ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখোমুখি হবে।

এছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা এল নিনোর কারণে বৃষ্টির অভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেও প্রভাবিত করেছে জিম্বাবুয়েতে। কারণ দেশটি জলবিদ্যুতের উপর নির্ভর করে।

এদিকে প্রতিবেশী জাম্বিয়া এবং মালাউইও সম্প্রতি খরার কারণে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের খরা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ খরা হবে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বলছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে ১ কোটি ৩৬ লাখ মানুষ ‘সংকট স্তরের’ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের জন্য খাদ্য সুরক্ষিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। জিম্বাবুয়ের কোনও নাগরিককে ক্ষুধায় আত্মহত্যা করতে বা মরতে হবে না।‘

ইতিমধ্যে অন্যান্য দেশ থেকে ভুট্টা আমদানির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

একসময় জিম্বাবুয়ে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে রুটির ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফসল এবং গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মারাত্মক খরার সম্মুখীন হয়েছে দেশটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত