জামালপুর সদরের শাহবাজপুর ইউনিয়নের তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া শ্রমিকের তালিকায় নাম লেখাতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১৮ শ্রমিক। আর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিকের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিজনের কাছ থেকে আট থেকে দশ হাজার টাকা নেন ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিয়ামত আলী, আশরাফুল আলম ও মারফত আলী। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ইজিপিপি প্রকল্পের কাজের পর প্রথম ধাপের আট হাজার টাকা পান তারা। শ্রমিকের তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সেখান থেকে চার হাজার টাকা নেন এই তিন ইউপি সদস্য। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের কাজ কয়েক মাস আগে শেষ হলেও সেই মজুরি এখনো না পাওয়ার অভিযোগ হতদরিদ্র শ্রমিকদের।
এ বিষয়ে বৃদ্ধা শ্রমিক সুফিয়া বেগম বলেন, ‘৩০ দিন মাটি কাটছি। আগের বিল আট হাজার থেকে চার হাজার নিয়ে গেছে। পরের বিল আট হাজার। সেই টাকা আর দেয় নাই। মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে চিৎকার করে কানছি। তবুও আমাদের টাকার কোনো ব্যবস্থা তারা করে দিল না।’
ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিক রমেছা বেগম বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দিয়ে কার্ড করছি। তারপর ৪০ দিনের কাজ করছি। অর্ধেক বেতন আঙ্গরে দেয়, অর্ধেক বেতন মেম্বর-চেয়ারম্যানরা নিয়ে যায়গা। অর্ধেক দেয় না। এই ধাপের টাকাই দেয় নাই। টাকা চাইতে গেলে আরো মারতে আসে।’
মোছা. হামিদা বেগম বলেন, ‘আট হাজার টাকা দিয়ে কার্ড করছি। তার বিনিময়ে কাজ করতাছি। টাকা চাইলে আঙ্গর নাম বাদ দিয়ে দিব কয়। তুঙ্গরে ফিল্ডে নামতে দিব না। এই অত্যাচার করে।’
জহিরন বেগম নামে একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ঈদ আইতাছে, পুলাপানের কাপড়-চোপর কিনব, চিনি-সেমাই কিনব। তাহলে পুলাপানের মুখে আমরা দিমু কি? আমরা নিজে খামু কি? আঙ্গর তো পেট আছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিন জন ইউপি সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন।
শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আয়ুব আলী খান বলেন, ‘ব্যাংক থেকে সরাসরি শ্রমিকদের একাউন্টে টাকা চলে যায়। নিশ্চয় টাকাটা তাদের পাওয়ার কথা। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড মেম্বাররা কোথাও কোনো অনিয়ম করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টা দেখব। স্থানীয়ভাবে আমি খোঁজ-খবর নেব। যদি কোনো অভিযোগ পাই তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
এ যুগের ব্র্যাডম্যান-ওয়াহ-টনি গ্রেইগ
‘আহারে জীবন’ মুক্তি ঈদে, চিন্তা-আফসোস কোনটাই নেই পরিচালকের