গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় ঘর থেকে ৮মাস বয়সী এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের তিন দিনেও চুরি যাওয়া শিশুর হদিস মেলেনি। বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার নাওজোড় এলাকায় ফরিদ মিয়ার ভাড়া বাসায় শিশু চুরির এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
চুরি যাওয়া শিশু ৮মাস বয়সী আব্দুল্লাহ্ নোমান। তার বাবা মোক্তার হোসেন (৪৪) চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার কমলাপুর গ্রামের মো. হান্নান খা’র ছেলে। তিনি ৬ বছর যাবত স্ত্রী ও শিশুসন্তানসহ গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার নাওজোড় এলাকার ফরিদ মিয়ার বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় গার্মেন্টস্ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে পার্শ্ববর্তী ঘরের ভাড়াটিয়া আইরিনকে আসামি করে বাসন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আইরিনের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার নাওজোড় এলাকার ফরিদ মিয়ার বাড়িতে ৬বছর যাবত ভাড়া থাকেন মোক্তার হোসেন। মাস খানেক আগে মোক্তার হোসেনের পাশের রুমের একটি কক্ষ ভাড়া নেন মামলার আসামি আইরিন ও তার স্বামী। গত বুধবার (৩ এপ্রিল) মোক্তার হোসেন তার স্ত্রী মনিরা আক্তার রুমা ও সন্তান আব্দুল্লাহ্ নোমানকে বাড়িতে রেখে কাজে চলে যান। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশু আব্দুল্লাহ্ নোমানকে গোসল করিয়ে খাটের উপর শুয়ে রেখে মা মনিরা আক্তার রুমা গোসল খানায় যান কাপড় চোপড় ধোয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর কাপড় ধোয়া শেষে ঘরে ফিরে শিশু আব্দুল্লাহ্ নোমানকে খাটের উপর দেখতে না পেয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ করতে থাকে, বিষয়টি মোক্তার হোসেনকে জানান। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে জানতে পারেন, আসামি আইরিন ঘর থেকে শিশু আব্দুল্লাহ্ নোমানকে তুলে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে শনিবার দুপুরে শিশুর বাবা মোক্তার হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা হয়। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমাদের কলিজার ধন চুরি হয়ে গেছে। ওকে না পেয়ে ওর মা পাগলপ্রায় অবস্থায় ভাড়া বাসায় বিলাপ করে কাঁদছে। ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম যেখানেই ক্লু পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় অভিযান চালিয়েছে। তবুও আমার সন্তানের খোঁজ পাচ্ছি না।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সিদ্দিক বলেন, ঘটনার পরপরই বাসন থানা পুলিশের একাধিক টিম শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে। এখনও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শিশুটিকে সুস্থভাবে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
