এক-এগারোর ঘটনার আগে ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতায় নেই বিএনপি। প্রায় ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে। এই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে প্রায় প্রত্যেক বছরই ঈদের আগে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ বা ‘ঈদের পর কর্মসূচি’র কথা উঠে এসেছে। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সময় বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে এমন কথা উঠে এসেছিল। তবে এবার সে ধরনের বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যদিও আন্দোলন আরও জোরদার করার জন্য ইতোমধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জোর দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।
আজ শনিবার মির্জা ফখরুল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর হচ্ছে কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের সমস্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকা। এখানে সরকারকে পরাজিত করতে হবে। সেই কারণে ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব অনেক বেশি। মহানগরের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করব, ঢাকাকে সেইভাবে গড়ে তোলেন, যেন ঢাকা দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়। এই দুর্গ যেন কেউ ভাঙতে না পারে। সেইভাবে আমাদের এখানে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’
জানা গেছে, ‘ঈদের পর আন্দোলন’ বা ‘ঈদের পর কর্মসূচি’- এ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের বক্তব্যে বিএনপিকে প্রায়ই কটাক্ষ করেছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও একাধিকবার বলেছেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের হুমকি জনগণের কাছে উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’
বাক্যটি সাধারণ মানুষের কাছেও হাস্য-রসে পরিণত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন- এটি ট্রল হিসেবেও ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এই ধরনের বক্তব্য বিএনপি নেতারা দেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য মাধ্যমে ট্রল হতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে দলটির একাধিক নেতার ভাষ্য হচ্ছে- রাজনীতিতে অনেক ধরনের বক্তব্য আসে। কেউ পরিস্থিতি জেনে দেন, কেউ সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য পুনরায় বলেন। ফলে এই বিষয়ে একাধিক বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে। তবে ঈদের পর ঘোষিত আন্দোলন সফল করতে না পারায় খোদ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের অস্তিস্ত রয়েছে। ফলে এবার তারা বুঝে-শুনে এ বিষয়ে কথা বলছেন।
নেতারা আরও বলছেন, নানা কারণে বিএনপির আন্দোলন সফল করা যাচ্ছে না। সর্বাত্মক আন্দোলন করতে যে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন লাগে তাতে ঘাটতি রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
জানা গেছে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবির আন্দোলনের জন্য সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে চাইছে বিএনপি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি নতুন করে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে দলটিতে। এ ছাড়া বিএনপির শরিক ছাড়াও সরকারবিরোধী অন্য দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সূত্রগুলোর দাবি।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ঈদের পরে আন্দোলন করব এটা না। ঈদের আগেও এ সরকারের পতন হতে পারে। প্রতিনিয়ত এ সরকার একটি বিপদজনক অবস্থায় আছে, আমার কাছে মনে হয়েছে। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। যারা নির্বাচিত নয় তারা যেকোনো মুহূর্তে পড়ে যেতে পারে। তবে এ সরকার বিদায় নেওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে পারে। তা হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা।’
মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার
‘বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন না করে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না’