বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুজ্জামানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টায় আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ কুমার।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলা মধ্য মাঝিড়া এলাকার বাসিন্দা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুজামান (৪০), রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেন রবিন (২৩), রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার মো. রমজান আলী (৩১), খালিশাকান্দির মো. সাইদুর রহমান খোকন (৩৩), মো. বোরহান উদ্দিন (২৯), মাঝিড়া মধ্যপাড়ার মো. সেরাজুল ইসলাম (২০), রহিমাবাদ উত্তরপাড়ার মো. আমিনুল ইসলাম (২৬), কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ার মো. মিতুল (২৬) এবং সাজাপুর নতুন পাড়ার মো. ওহাবুজ্জামান নাইম (৩৪)।
পুলিশ সুপার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টায় আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযানে মাদক, ২টি বার্মিজ চাকুসহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিঠুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুরুজ্জামানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অন্য আসামি নুরুর বাড়ি থেকে ৭ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল এবং নুরুর ম্যানেজার নাজমুলের বাড়ি থেকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ আরও একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, মিঠুনের নামে হত্যা, মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা চলমান। রাত ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে থানায় এসে মিঠুনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে ধাক্কা দেয় এবং অপর পুলিশ সদস্যদের মারপিট করে পালিয়ে যায়। মারপিটে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরে নুরুজ্জামানসহ আরও লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও আক্রমণ করতে মাঝিড়ায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় জেলা পুলিশ, র্যাব ও ডিবির সদস্যরা নুরুজ্জামানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হবে। মামলার পর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে মূল আসামি নুরুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য আসামি নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, জমি দখল, সরকারি কাজে বাধা, মাদক আইনে অন্তত ৮-১০টি মামলা রয়েছে। এর আগে সরকারি টেন্ডার চুরির ঘটনায় মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান বরখাস্ত হয়েছিলেন।
